Advertisement
E-Paper

‘মমতাদিকে বাছতে হবে আমি, না অভিষেক!’ ঔদ্ধত্যে রুষ্ট হয়ে মামলা ছাড়লেন কল্যাণ, দায়ী করলেন দল শেষ হওয়ার জন্যও

‘ক্রাউন প্রিন্স’-কে তুলোধোনা করে পরিষদীয় দল ভেঙে দিয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক। একই ছবি সংসদেও। দলের এই ভাঙন পর্বে যিনি জোর গলায় মমতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ বার বিদ্রোহী।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১৩:৪৫
(বাঁ দিকে) কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন একের পর এক তৃণমূল নেতা। ‘ক্রাউন প্রিন্স’-কে তুলোধোনা করে পরিষদীয় দল ভেঙে দিয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক। একই ছবি সংসদেও। দলের এই ভাঙনপর্বে যিনি জোর গলায় মমতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ বার বিদ্রোহী। অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্যে’ রীতিমতো চটে গিয়ে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদের ঘোষণা, ‘‘মমতাদিকে বেছে নিতে হবে, দলে কে থাকবে, আমি না অভিষেক।’’ এ দিন বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টে অভিষেকের দায়ের করা মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের উপরে ক্ষোভ উগরে দেন কল্যাণ। তাঁর মন্তব্য, “ওর জন্য দলটা শেষ হয়েছে। তার পরেও উদ্ধত ভাব যায়নি।”

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাতে। সকালে সই জাল কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাই কোর্টে যে মামলাটি করেছিলেন, তার শুনানি হয় বৃহস্পতিবার। কল্যাণের দাবি, বুধবার রাতে তাঁর পুত্রকে জানানো হয়, অন্য আইনজীবী মামলাটির জন্য সওয়াল করবেন। তার পরেই মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন কল্যাণ। বলেন, “আমি অভিষেকের মামলা ছেড়ে দিয়েছি। কী উদ্ধত রে বাবা! কাল (বুধবার) আমি ওর মামলার কথা আদালতে উল্লেখ করলাম। মমতাদির বাড়িতে সিআইডি-র যাওয়ার বিষয়টিও তুললাম। অভিষেকের মামলাটা কোনও কারণে কাল কোর্ট শোনেনি। আমরা বিচারপতি কৌশিক চন্দকে বলি, এটা জরুরি ভিত্তিতে শুনুন। আজ শুনানি হত।” তার পরেই কল্যাণের সংযোজন, “কাল রাত সাড়ে ১২টায় আমার ছেলেকে ফোন করে বলা হয়েছে, জুনিয়রস্য জুনিয়র অয়ন এই মামলায় সওয়াল করবে। আমি বলে দিয়েছি এর (অভিষেক) সঙ্গে থাকব না। এই পেশায় ৪৫ বছর আছি। এই উদ্ধত মনোভাব মেনে নেব না। আমি মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান।”

পরে অভিষেককে নিশানা করে কল্যাণ বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের এক নম্বর সৎ রাজনীতিক। ওর জন্য আমাদের চোর-চোর স্লোগান শুনতে হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় দিদির পাশে আছি। কিন্তু তার পরেও যদি অভিষেক এই রকম ঔদ্ধত্য দেখায়, আমাদের কর্মচারী মনে করে, তা হলে করার কিছু নেই। মমতাদিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তিনি অভিষেককে নিয়ে থাকবেন, না কি আমার মতো যারা অভিষেকের বিরুদ্ধে, তাদের নিয়ে থাকবেন।’’

সঙ্গে জুড়ে দেন, ‘‘অভিষেকের সঙ্গে দিদির রক্তের সম্পর্ক। ওঁর ভাইপো। কিন্তু আমার মতো মানুষের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক নেই। কিন্তু আমরা ৪০ বছর দিদির কাছে কাজ করেছি, লড়েছি। এখন দিদিকে বেছে নিতে হবে, কাকে উনি রাখবেন। অভিষেক পদে থাকলে দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি আমাকে চলে যেতে হবে।’’ কল্যাণের বক্তব্য, ‘‘এর আগে ২০২২ সালেও আমি বলেছি, ওকে দিয়ে চলবে না। আমি একা বলেছিলাম তখন। ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়েও আমি আগে প্রশ্ন তুলেছি। কিন্তু ওর ঔদ্ধত্য কমেনি। এ বার ফাইনাল কল নিতে হবে দিদিকেই।’’

Kalyan Banerjee TMC Mamata Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy