আর পাঁচটা দিনের মতোই সকালের ব্যস্ততা ছিল নাগেরবাজার মোড়ের কাছে। আচমকা পথচলতি মানুষজন দেখলেন, উড়ালপুলের উপর থেকে ভারী কিছু উড়ে এসে হোর্ডিংয়ে ধাক্কা খেয়ে সোজা রাস্তায় পড়ল। সেই সঙ্গে বিকট আওয়াজ। ছুটে গিয়ে তাঁরা দেখলেন, হেলমেট পরা অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন মাঝবয়সি এক ব্যক্তি। তাঁর পায়ে গভীর ক্ষত। আশপাশে রক্তের দাগ। দ্রুত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি বাইকচালক। নাগেরবাজার উড়ালপুলে একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা লাগার পরে তিনি উড়ালপুল থেকে ছিটকে নীচে পড়েন।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ। মৃতের নাম বিশালকুমার ঢালিয়া (৫০)। তাঁর বাড়ি বাগুইআটি থানা এলাকায়। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জেনেছে, এ দিন সকালে মোটরবাইক চালিয়ে বিশাল কলকাতা বিমানবন্দরের এক নম্বর গেটের দিকে যাচ্ছিলেন। উল্টো দিকে, উড়ালপুল ধরে বিমানবন্দরের দিক থেকে লেক টাউনের দিকে আসছিল গাড়িটি। নাগেরবাজার মোড়ের কাছে উড়ালপুলের উপরে দু’টি যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই বেশি ছিল যে, বিশাল প্রায় ৩০-৪০ ফুট নীচে আছড়ে পড়েন।
বাইকটির সঙ্গে ধাক্কা লাগার পরে উড়ালপুলের রেলিংয়েও ধাক্কা মারে গাড়িটি। ধাক্কার অভিঘাতে গাড়ির এয়ারব্যাগ ফেটে যায়। আহত হন চালক। স্থানীয় লোকজন এবং নাগেরবাজার ট্র্যাফিক গার্ডের কর্মীরা দ্রুত গিয়ে বিশাল এবং গাড়ির চালককে উদ্ধার করেন। বিশালকে দমদম পুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান। গাড়িচালককেও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন বিশালের পরিবারের সদস্যেরা। তাঁরা অবশ্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। পুলিশ জানিয়েছে, বাইক এবং গাড়িটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশালের দেহ পাঠানো হয়েছে ময়না তদন্তে।
উল্লেখ্য, নাগেরবাজার উড়ালপুলে দুর্ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও সেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানিও হয়েছে। এ দিনের দুর্ঘটনার মতো একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে। এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মোটরবাইকে উড়ালপুল ধরে যাচ্ছিলেন। মাঝপথে উল্টো দিক থেকে আসা একটি গাড়ির ধাক্কায় বাইকচালক ছিটকে উড়ালপুলের উপরে পড়েন। তাঁর স্ত্রী ছিটকে পড়েছিলেন নীচের রাস্তায়। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ওই মহিলার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, ওই উড়ালপুলের উপরে একাধিক বাঁক রয়েছে, যেগুলি বিপজ্জনক। বাঁকের মুখে গাড়ির গতি বেশি থাকলে প্রতি মুহূর্তে বিপদ ঘটার আশঙ্কা থাকে। উড়ালপুলের উপরে যেখানে এ দিন দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে গিয়ে দেখা গেল, রাস্তায় তখনও আপৎকালীন ব্রেক কষার চিহ্ন স্পষ্ট। কিন্তু তাতেও দুর্ঘটনা এড়ানো যায়নি। মোটরবাইকটির যন্ত্রাংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বেশ কিছুটা জায়গা জুড়ে। ওই পথে যাতায়াতকারী গাড়িচালকদের একাংশের কথায়, গাড়িটির গতি সম্ভবত খুব বেশি ছিল। যে কারণে শেষ মুহূর্তে চেষ্টা করেও সংঘর্ষ এড়ানো যায়নি। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই ছিল যে, মোটরবাইকের চালক ছিটকে প্রায় ৩০-৪০ ফুট নীচে পড়েন।
পুলিশ সূত্রের খবর, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাড়িটির গতি বেশি ছিল কিনা, চালকই বা কী অবস্থায় ছিলেন, সে সব দেখার পাশাপাশি গাড়িটিতে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কিনা, তা-ও দেখা হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)