আবার আলিপুরে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে গেলেন আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। আরজি কর দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরোয়ানা জারির ২৪ ঘণ্টা পরই শনিবার তিনি আদালতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আত্মসমর্পণ করা হয়নি। পরে জানান, তিনি সোমবার আত্মসমর্পণ করবেন। কিন্তু সোমবার দিনভর আদালতে সিবিআই উপস্থিত ছিল। তবে আখতার যাননি। অসুস্থতার জন্য সোমবার আসতে পারেননি বলে জানান আখতার। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে হাজির হন তিনি।
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের আইনজীবী সঞ্জয় দাশগুপ্ত মঙ্গলবার আদালতে জানান, এই মামলা দীর্ঘায়িত করছেন আখতার। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও হাজিরা দেননি। তিনি লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন। আইনজীবীর সওয়াল, ‘‘দুর্নীতির শিকড় আরও গভীরে আছে। সেই নথি আমরা আদালতে দিয়েছি।’’ সঞ্জয়ের দাবি, এই দুর্নীতিতে তাঁর মক্কেলের কোনও ভূমিকা নেই। সিবিআইয়ের তরফে আখতারের জেল হেফাজতের আবেদন করা হয়। আখতারের অসুস্থতার দাবি উড়িয়ে দিয়ে আদালতে তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী আখতারকে প্রশ্ন করেন, ‘‘মিডিয়ায় বাইট দেওয়ার সময় ফিট (সুস্থ), আর হাজিরা দিচ্ছেন না?’’ আখতারের আইনজীবীর দাবি, গত ১৬ ডিসেম্বর প্রথম হাজিরার তারিখ ছিল। তবে তার পরে হাই কোর্টে আবেদন করা হয়। সেই সময়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর মক্কেল। সেই কারণে হাজিরা দিতে পারেননি। সিবিআই প্রশ্ন তোলে, পরে কেন তিনি আসেননি? যদিও আখতারের আইনজীবীর দাবি, অনেক দিন ধরেই অসুস্থ তাঁর মক্কেল। আদালতে সব পক্ষের বেশ কিছু ক্ষণ সওয়াল-জবাব চলে।
সন্দীপের বিরুদ্ধে আরজি করে আর্থিক কেলেঙ্কারি-সহ নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছিলেন এই আখতারই। তবে তদন্তে নেমে সিবিআই জানায়, সেই আখতারও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত! আরজি কর দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিটও জমা দেয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। আদালতে তারা দাবি করে, তদন্তের স্বার্থে বার বার আখতারকে সমন পাঠিয়ে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু হাজিরা দেননি তিনি। সিবিআই অভিযোগ করে, অসুস্থতাকে ঢাল করে কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন আখতার। রক্ষাকবচের আর্জি খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত।
আরও পড়ুন:
হাই কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পরই গত শুক্রবার আলিপুর আদালত আখতারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের পরের দিনই আদালতে যান আখতার। অসুস্থ থাকার কারণেই হাজিরা দিতে পারেননি বলে দাবি করেছিলেন তিনি। আখতার জানিয়েছিলেন, শনিবার হাওড়া হাসপাতাল থেকে সোজা আদালতে এসেছেন। তবে তিনি যে আসবেন, তা আগে থেকে আদালতে জানানো ছিল না। তাঁর সঙ্গে ছিলেন না কোনও আইনজীবীও। শনিবার আদালত বেলা ১২টায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আত্মসমর্পণ করা হয়নি আখতারের। মঙ্গলবার আবার তিনি আদালতে আসেন।