শহরের বৃহত্তম অ্যাপ-ক্যাব সংস্থার অ্যাপ-নির্ভর শাটল বাস পরিষেবা কাল, ২ এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ওই সংস্থা নিয়মিত যাত্রীদের পাশাপাশি বাতানুকূল বাস সরবরাহকারী ভেন্ডারদের ইমেল করে পরিষেবা বন্ধ করার কথা জানিয়েছে। কলকাতায় সংস্থার ৮০০টি বাসের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার যাত্রী বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করতেন। জোকা, বেহালা, টালিগঞ্জ, গল্ফ গ্রিন, বোড়াল, ডানকুনি, বালি-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ওই সব বাস সেক্টর ফাইভ হয়ে ইকো স্পেস পর্যন্ত চলাচল করে। এর জেরে যাত্রীদের পাশাপাশি সমস্যায় পড়তে চলেছেন বাসমালিক ও কর্মীরাও।
মোটা টাকা ঋণ নিয়ে যে সব বাসমালিক ওই সব বাস নামিয়েছিলেন, তাঁরা বিধ্বস্ত। পুলকার ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দত্ত এবং বেহালার এক বাসমালিক শঙ্কর মণ্ডল জানান, বাসপিছু মাসে গড়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণের কিস্তি মেটাতে হয়। ট্রিপ পিছু মেলে ২৫০০ টাকা। ঋণের কিস্তি, বেতন এবং জ্বালানির খরচের পরে হাতে থাকে নামমাত্র টাকা। কিস্তির টাকা শোধ হলে আয় বাড়ার আশায় ছিলেন তাঁরা। আচমকা পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। কাজ হারাতে চলেছেন অন্তত হাজারখানেক কর্মী।
২০২২ সালে এই শাটল বাসের পরিষেবা শুরুর কারণে সরকারি বাতানুকূল বাস এবং অ্যাপ-ক্যাব পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অ্যাপ-ক্যাব সংগঠনের তরফে ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তখন বহু ক্যাবচালক অন্য জীবিকা খুঁজতে বাধ্য হন। পরিবহণ দফতরের নজরদারিতে থেকে কী ভাবে ওই সংস্থা রাতারাতি পরিষেবা বন্ধ করে দিতে পারে, সেই প্রশ্ন উঠছে। পরিবহণ দফতরের আধিকারিকদের একাংশের দাবি, বিষয়টি তাঁদেরও জানা নেই।
উবর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শাটল চালানোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্রুত তাঁরা কর্মীদের যাতায়াতের অন্য ব্যবস্থা চালু করবেন। তবে, কেন এই পরিষেবা বন্ধ করা হল, বাসমালিকদের কী হবে, তার সদুত্তর মেলেনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)