E-Paper

‘ভাতা নয়, বেতন চাই’ দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে রাজ্যের আশাকর্মীরা

প্রথমেই আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য ভবনে ঢুকতে পারেননি। স্বাস্থ্য ভবনের বাইরের রাস্তায় ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড রেখেছিল পুলিশ। সেই পর্যন্ত মিছিল করে পৌঁছন আশাকর্মীরা। কিন্তু বাধা পাওয়ায় পুলিশের সঙ্গে বচসা বাধে তাঁদের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪২
ঘেরাও: পারিশ্রমিক বৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবিতে আশাকর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযান। বুধবার, সল্টলেকে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে।

ঘেরাও: পারিশ্রমিক বৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবিতে আশাকর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযান। বুধবার, সল্টলেকে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক।

নিয়মিত মজুরি-সহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁরা আন্দোলন করছেন। বার বার স্মারকলিপি জমা দিয়েও কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ। তাই দাবি আদায়ে ১৬ দিন ধরে কর্মবিরতি চালানোর পাশাপাশি, সোমবার স্বাস্থ্য ভবন অভিযান করলেন পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ও পৌর স্বাস্থ্যকর্মী (চুক্তিভিত্তিক) সংগঠনের কয়েক হাজার সদস্য।

‘ভাতা নয়, বেতন চাই’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে এ দিন পাহাড় ও সমতলের সব জেলা থেকে আসা ওই দুই সংগঠনের সদস্যেরা হাজির হন স্বাস্থ্য ভবনের সামনে। হুঁশিয়ারি দেন, দাবি পূরণ না হলে তাঁরা ভোট বয়কটের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন। তবে, এ দিন প্রথমেই আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য ভবনে ঢুকতে পারেননি। স্বাস্থ্য ভবনের বাইরের রাস্তায় ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড রেখেছিল পুলিশ। সেই পর্যন্ত মিছিল করে পৌঁছন আশাকর্মীরা। কিন্তু বাধা পাওয়ায় পুলিশের সঙ্গে বচসা বাধে তাঁদের। তাঁরা ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা শুরু করতেই পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও ধস্তাধস্তি হয়। এমন ভাবেই তিনটি ব্যারিকেড ভেঙে স্বাস্থ্য ভবনের মূল গেট পর্যন্ত এগিয়ে যান আশাকর্মীরা।

তাঁরা দাবি করেন, ১৫ জন প্রতিনিধিকে ভিতরে যেতে দিতে হবে। কিন্তু তার অনুমতি না মেলায় স্বাস্থ্য ভবনের সামনের রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। দাবি তোলেন, স্মারকলিপি জমা দিতে দেওয়া না হলে তাঁরা প্রয়োজনে অনশন শুরু করবেন। পরে স্বাস্থ্য ভবনের ভিতরে ১৫ জনের যাওয়ার অনুমতি মেলে। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম-সহ অন্য কর্তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। আলোচনা আপাতত সদর্থক হয়েছে বলেই দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।

গত ফেব্রুয়ারিতে ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে ৭০ হাজার আশাকর্মী ও এক লক্ষ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে স্মার্টফোন দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। সেই সময়েই আশাকর্মীরা দাবি তুলেছিলেন, কাজের সুবিধার্থে তাঁদের অনেকেই স্মার্টফোন কিনে নিয়েছেন। তাই ফোন না দিয়ে ভাতা বৃদ্ধি করা হোক। এ নিয়ে কয়েক বার স্মারকলিপি জমা দিলেও কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ। উল্টে যে উৎসাহ ভাতা দেওয়া হয়, তা-ও নিয়মিত নয় এবং কয়েক ভাগে প্রদান করা হচ্ছে। তার কোনও ঠিক হিসাবও মিলছে না।

রাজ্য সরকারের অন্যান্য ক্ষেত্রের শ্রমিকদের মতো তাঁদের ন্যূনতম মজুরি (স্থায়ী) ১৫ হাজার টাকা করা-সহ আরও ন’দফা দাবিকে সামনে রেখে গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতি শুরু করেন পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ও পৌর স্বাস্থ্যকর্মী (চুক্তিভিত্তিক) সংগঠনের সদস্যেরা। দিনকয়েক আগে বিভিন্ন জেলা সদরে অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেন তাঁরা। এর পরে এ দিন স্বাস্থ্য ভবন অভিযান করেন।

পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের সম্পাদক ইসমত আরা খাতুনের অভিযোগ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন খেলা, মেলা, নির্বাচন, পরীক্ষা-সহ বাড়তি কাজ করানো হয় তাঁদের দিয়ে। কিন্তু ওই সমস্ত কাজের পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না, শ্রম-সময়ও গ্রাহ্য করা হয় না। অন্তত চার মাস উৎসাহ ভাতা বকেয়া রাখা এবং প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন খাতের টাকা বাকি থাকা অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

এ দিন বৈঠকের পরে পৌর স্বাস্থ্যকর্মী (চুক্তিভিত্তিক) সংগঠনের সভাপতি রুনা পুরকাইত জানান, ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা বেতনের বিষয়ে ভাল খবর পাওয়ার আশা রয়েছে বলেই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসচিব। পাশাপাশি, বকেয়া উৎসাহ ভাতা একসঙ্গে মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং হিসাব রাখার জন্য বিল দেওয়া হবে। কর্মরত অবস্থায় মৃতআশাকর্মীদের পরিবারকে এককালীন পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার বিষয়টিও কার্যকর করার আশ্বাস মিলেছে। মোবাইল বিল প্রদান, সরকারি ছুটির সুবিধা-সহ বাকি দাবির বিষয়েও স্বাস্থ্য দফতর পদক্ষেপ করছে বলেই আশাকর্মীদের জানানো হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

ASHA Swasthya Bhavan

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy