এ বার আমেরিকার জাহাজে হামলা চালাল ইরান। উত্তর উপসাগরীয় এলাকায় একটি মার্কিন পণ্যবাহী জাহাজ (ট্যাঙ্কার)-এ হামলা চালিয়েছে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড। রয়টার্স সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে। ইরানি বাহিনীর দাবি, হামলার পরে আগুন ধরে গিয়েছে মার্কিন পণ্যবাহী জাহাজটিতে।
বুধবারই ভারত মহাসাগরের বুকে ইরানের এক রণতরীতে হামলা চালায় আমেরিকার ডুবোজাহাজ। টর্পেডো ছুড়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয় ইরানের ওই যুদ্ধজাহাজকে। ওই হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এ বার প্রত্যাঘাত করল ইরান। রণতরীতে হামলার জবাবে মার্কিন পণ্যবাহী জাহাজে প্রতিআক্রমণ চালাল তেহরান। যদিও এই হামলার বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া প্রাথমিক ভাবে মেলেনি।
ঘটনাচক্রে, উত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে এই হামলার খবর প্রকাশ্যে আসার কিছু সময় আগেই আমেরিকার উদ্দেশে হুঙ্কার দেয় ইরান। তেহরানে বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সমাজমাধ্যমে লেখেন, রণতরীতে হামলার জন্য ‘পস্তাতে’ হবে আমেরিকাকে। তার পর পরই জানা যায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার একটি ট্যাঙ্কার আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। ওই ট্যাঙ্কারে কত জন ছিলেন, সেটিতে করে কী ধরনের পণ্য নিয়ে আসা হচ্ছিল, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
আরও পড়ুন:
গত শনিবার যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলের জলপথকে দৃশ্যত স্তব্ধ করে রেখেছে ইরান। ‘বন্ধ’ করে দিয়েছে বাণিজ্যিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ় প্রণালীকে। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ধারাবাহিক ড্রোন হামলা হরমুজ় প্রণালীকে আগামী কয়েক মাস ধরে স্তব্ধ করে রাখতে পারে।
ড্রোন প্রস্তুতকারক দেশগুলির মধ্যে বিশ্বের প্রথম সারিতে রয়েছে ইরান। প্রতি মাসে তেহরান প্রায় ১০ হাজার ড্রোন তৈরির ক্ষমতা রাখে। তাদের কত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে, তা অস্পষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে। তবে ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের পাল্লা ৭০০-১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। যা ইরানের মূল ভূখণ্ড বা জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে পারস্য এবং ওমান উপসাগরীয় অঞ্চলের যে কোনও লক্ষ্যে আঘাত হানার জন্য যথেষ্ট। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড বুধবারই দাবি করেছে, তারা হরমুজ় প্রণালী ‘সম্পূর্ণ দখল’ করে নিয়েছে। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করলেই সেই জাহাজে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরান। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলাও করেছে তারা। এ বার আমেরিকার ট্যাঙ্কারেও হামলা চালাল ইরান।