E-Paper

গ্যাস ভরাতে লাইন দিতে হচ্ছে রাতভর, তীব্র সঙ্কটে নাকাল অটোচালকেরা

পরিস্থিতি এমনই যে, পাম্পে রাত জাগার জন্য অটোচালকদের অনেকে বাড়ি থেকে মশারি, বিছানা নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।

ফিরোজ ইসলাম 

শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৩
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কেউ ব্যাঙ্ক বা ঋণদাতা সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে অটো কিনেছেন, কেউ বা অন্যের অটো চুক্তির ভিত্তিতে ভাড়া নিয়ে চালান। অটো চালিয়ে পাওয়া দৈনিক রোজগারের সাত-আটশো টাকা না হলেই নয়। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় তৈরি হওয়া পরিস্থিতির জেরে অটোর এলপিজি-র জোগানে টান পড়তেই কলকাতা শহর ও শহরতলির অটোচালকদের রোজনামচা বদলে যেতে বসেছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, গ্যাস ভরানোর জন্য বেশির ভাগ পেট্রল পাম্পেই আট থেকে ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সারা রাত অপেক্ষায় থাকার পরে গ্যাস মিলছে পরদিন দুপুরে কিংবা বিকেলে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে বাড়ি ফিরে একটু জিরিয়ে নিয়েই ফের ছুটতে হচ্ছে রাস্তায় ট্রিপ ধরার জন্য। অটোচালকেরা জানাচ্ছেন, ট্যাঙ্ক ভর্তি করে গ্যাস নিলেও তা চলছে বড়জোর দু’দিন। তার পরেই ফের গিয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে পেট্রল পাম্পের গ্যাসের লাইনে।

পরিস্থিতি এমনই যে, পাম্পে রাত জাগার জন্য অটোচালকদের অনেকে বাড়ি থেকে মশারি, বিছানা নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। বেঙ্গল কেমিক্যালের কাছে একটি পেট্রল পাম্পে সম্প্রতি এক অটোচালক পুরোদস্তুর মশারিতে অটো ঢেকে গ্যাসের লাইনে আসেন।তাঁর সহকর্মীরা জানান, রাতে অন্তত কিছুটা ঘুম না হলে গ্যাস পাওয়ার পরে রাস্তায় অটো নিয়ে বেরোনো সম্ভব হবে না। তাই বাধ্য হয়েই দীর্ঘ অপেক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হচ্ছে তাঁদের। দক্ষিণ কলকাতার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড, রানিকুঠি সংলগ্ন গাছতলা পাম্প, অথবা মহামায়াতলা— সর্বত্রই পেট্রল পাম্পে গ্যাসের জন্য লম্বা লাইন পড়ছে বলে জানা গিয়েছে। প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের পাম্পে অটোর লাইন যাদবপুরের এইট বি বাস স্ট্যান্ড ছুঁয়ে ফেলছে। গড়িয়া, মহামায়াতলা, বারুইপুর— সর্বত্রই প্রায় পাঁচ থেকে ছ’শো অটোর লাইন পড়ছে।

এরই মধ্যে পাম্পে দীর্ঘ সময় ধরে লাইন দেওয়ার পরেও গ্যাস না পেয়ে ক্ষুব্ধ অটোচালকেরা বুধবার দুপুরে গড়িয়ায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রোড অবরোধ করেন।গ্যাস নিয়ে সমস্যার জেরে বেশির ভাগ অটোচালকই সপ্তাহে মেরেকেটে সাড়ে চার দিনের বেশি অটো চালাতে পারছেন না বলে জানাচ্ছেন গড়িয়া-বারুইপুর রুটের অটোচালক আসলাম শেখ, সবুজ হালদারেরা। গ্যাসের খোঁজে পার্ক সার্কাসের অটোচালককে হয়তো যেতে হচ্ছে প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে, রুবির অটোচালককে যেতে হচ্ছে বারুইপুরে। আবার বেহালার অটোচালক হয়তো বা আসছেন রানিকুঠিতে।

জ্বালানির এই সঙ্কটের জেরে বেহালা, বেহালা চৌরাস্তা, টালিগঞ্জ, সোনারপুর, কবরডাঙা, ঠাকুরপুকুর— সর্বত্রই সকালে এবং সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে অটো পেতে গিয়ে নাজেহাল হতে হচ্ছে যাত্রীদের। এরই মধ্যেকেজি প্রতি গ্যাসের দাম প্রায় ১৩টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। সোনারপুর, বারুইপুর, তারাতলা-সহ বেশ কিছু রুটে অটোর ভাড়া বেড়েছে। অন্যত্র গাড়ির সংখ্যা কমে যাওয়ায় চালকেরা চার জনের পরিবর্তে পাঁচ জন যাত্রী তুলে ক্ষতি সামাল দিচ্ছেন।

তবে, এই সঙ্কট আরও বাড়লে কী ভাবে তা সামাল দেবেন, ভেবে কূল পাচ্ছেন না অনেকেই। অটোচালক সংগঠনের প্রাক্তন নেতা এবং পেশায় অটোর মালিক গোপাল সুতার বললেন, ‘‘পাম্পগুলি বলছে, গ্যাসের অভাব নেই। কিন্তু, সমস্যা যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি খুবই সঙ্গিন। অটোচালকদের কত জন বেশি দিন এই চাপ সহ্য করতে পারবেন, সেটা সত্যিই জানা নেই।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Autorickshaw

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy