হরমুজ় প্রণালী দিয়ে ‘শত্রুদের’ জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া ইরানের ‘বৈধ’ অধিকার! রাষ্ট্রপুঞ্জে এমনই দাবি করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। হরমুজ়ে অচলাবস্থার জন্য আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে দায়ী করেন তিনি। ওই দুই দেশের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘন এবং আগ্রাসনের অভিযোগ আনেন আরাঘচি।
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ অভিযান শুরুর পর থেকেই হরমুজ় প্রণালী কার্যত ‘অবরুদ্ধ’ করে রেখেছে ইরান। তবে ভারত-সহ কয়েকটি দেশের জাহাজকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। হরমুজ় কার্যত ‘অবরুদ্ধ’ হওয়ায় বিশ্বের নানা প্রান্তে জ্বালানি সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের মতো কিছু দেশ অবশ্য জানাচ্ছে, আপাতত প্রয়োজনীয় জ্বালানি মজুত রয়েছে। তবে এ ভাবে হরমুজ় ‘অবরুদ্ধ’ থাকলে অদূর ভবিষ্যতে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হতে পারে অনেক দেশেই। সেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জও। তবে আরাঘচি রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে জানিয়েছেন, ওই জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছেন ইরান কর্তৃপক্ষ।
হরমুজ় প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বললেও আরাঘচি বুঝিয়ে দেন আমেরিকা বা ইজ়রায়েলের জন্য কোনও ‘ছাড়’ দিতে নারাজ তারা। শুধু এই দুই দেশ নয়, তাদের ‘বন্ধু’ দেশগুলির জন্যও যে একই পন্থা নেবে ইরান, তা জানিয়েছেন আরাঘচি। তাঁর দাবি, শত্রু দেশগুলির জাহাজ চলাচল প্রতিরোধ করা একটি উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসাবে ইরানের আইনগত অধিকার।
আরও পড়ুন:
আরাঘচির অভিযোগ, মার্কিন বাহিনী সাধারণ মানুষকে ‘ঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করছে। ইরানের দাবি, তারা মূলত পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রীর অভিযোগ, সেই কারণে অনেক মার্কিন সেনা ঘাঁটি ছেড়ে ‘পালিয়ে’ গিয়ে ‘হোটেল বা কোনও অফিসে’ আশ্রয় নিচ্ছেন।
ইরান আগেই বলেছিল, তাদের সঙ্গে শত্রুতা নেই, এমন দেশের জাহাজগুলিকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে দিতে রাজি তেহরান। দিন দুয়েক আগে আরাঘচি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “হরমুজ় প্রণালী একেবারে বন্ধ নেই। ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়েছে, এমন বেশ কিছু দেশের জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, ‘‘নিরাপদে জাহাজ চলাচলের জন্য বিভিন্ন দেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এর মধ্যে কয়েকটি দেশকে আমরা বন্ধু বলে মনে করি। সে ক্ষেত্রে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সেই জাহাজগুলিকে নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আপনারা খবরে দেখেছেন— চিন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক এবং ভারতের জাহাজ চলাচল করছে।’’ তবে আমেরিকা বা ইজ়রায়েলের কোনও জাহাজকে যে হরমুজ় পারাপারের ‘অনুমতি’ দেওয়া হবে না, তা রাষ্ট্রপুঞ্জকে জানিয়ে দিলেন আরাঘচি।