Advertisement
E-Paper

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: ঘটনাস্থলে পাঁচের বেশি জমায়েত চলবে না! সাঁটানো হল নোটিস, দুপুরে যাওয়ার কথা শুভেন্দুর

গত রবিবার রবিবার রাত ৩টে নাগাদ আনন্দপুরের দু’টি গুদামে আগুন লেগেছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর জানা গিয়েছে, আগুন প্রথমে লাগে ডেকরেটার্সের গুদামে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৩
আনন্দপুরের ঘটনাস্থলে পাঁচের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করার নোটিসও সাঁটানো হয়েছে গার্ডরেলে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে যাওয়ার কথা শুভেন্দু অধিকারীর।

আনন্দপুরের ঘটনাস্থলে পাঁচের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করার নোটিসও সাঁটানো হয়েছে গার্ডরেলে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে যাওয়ার কথা শুভেন্দু অধিকারীর। — নিজস্ব চিত্র।

আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডের এলাকায় পাঁচ জনের বেশি জমায়েত করতে পারবেন না। এই মর্মে নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে গার্ডরেলে। পুলিশ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, জমায়েতের কারণে ওই এলাকায় তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই কারণে বারুইপুর আদালতের অনুমতি নিয়ে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারই আনন্দপুরের ওই ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। ঘটনাচক্র, তার আগেই পুলিশের তরফে এই নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়া হল ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা গার্ডরেলে।

এই পরিস্থিতিতে আনন্দপুরের ঘটনাস্থলে বিরোধী দলনেতার কর্মসূচি ঘিরে জল গড়িয়েছে আদালতে। জানা যাচ্ছে, গড়িয়া শীতলামন্দির চত্বর থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পর্যন্ত মিছিল করে যেতে যায় বিজেপির। কিন্তু পুলিশ সেখানে ১৬৩ ধারা জারি করেছে। সেই কারণে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চ। দুপুরেই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় গত রবিবার দু’টি গুদামে আগুন লেগে যায়। তার মধ্যে ছিল ওয়াও মোমো-র গুদাম। অপরটি ডেকরেটার্সের গুদাম। ওই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মিলেছে কিছু দেহাংশও। সেগুলি এক জনের, না একাধিক ব্যক্তির— তা-ও স্পষ্ট নয়। এখনও পর্যন্ত এমন ২১টি দেহাংশের সন্ধান মিলেছে। সূত্রের খবর, ২৭ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে থানায়।

বৃহস্পতিবার সকালেও আনন্দপুরে আগুনে পুড়ে যাওয়া ওই গুদামের ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। জেসিবি দিয়ে সরানো হচ্ছে ধ্বংসাবশেষ। গুদামের টিনের শেড কেটে নামানো হচ্ছে। ধ্বংসাবশেষ সরানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ক্রেনও। গত রবিবার রবিবার রাত ৩টে নাগাদ আনন্দপুরের দু’টি গুদামে আগুন লেগেছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর জানা গিয়েছে, আগুন প্রথমে লাগে ডেকরেটার্সের গুদামে। ওই গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে।

দুপুরে মোমো সংস্থার গুদামে নিহতদের পরিবারের সদস্যেরা সাংবাদিক বৈঠক করেন। রবীশ হাঁসদা ওই গুদামে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন। তাঁর দাদা সুনীল জানান, দুর্ঘটনার রাতে রবীশ তাঁকে ফোন করেছিলেন। ফোনে তাঁকে বলেন, “আমি আজ মরে যাব। কোম্পানিতে আগুন লেগেছে। আর এখান থেকে বেরোতে পারব না। আমার বাচ্চাকে দেখো।” তখন সুনীল তাঁকে বাঁচার জন্য চেষ্টা করতে বলেন। কিন্তু রবীশ উত্তরে বলেন, “এমন জায়গায় ফেঁসে গেছি। আর নড়তে পারছি না।”

নিহত পঙ্কজ হালদারের স্ত্রী মৌসুমী হালদারও ছিলেন সাংবাদিক বৈঠকে। তিনি বলেন, “গুদাম ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। যদি নিরাপত্তারক্ষী বিশ্রাম না নিয়ে ওখানেই থাকতেন, তা হলে তাঁরা বেরিয়ে যেতে পারতেন।” যদিও নিহত নিরাপত্তারক্ষীর দাদা সুনীলের দাবি, “যদি পিছনের দরজার কাছে ডেকরেটার্সের জিনিসপত্র রাখা না থাকত। তবে তাঁরা বেরিয়ে যেতে পারতেন। আপদকালীন দরজা থাকলেও হয়ত বেরিয়ে যেতে পারতেন সকলে।” অপর এক নিহত কর্মী বাসুদেব হালদারের ছেলে নয়ন হালদার বলেন, “পিছনের প্রস্থানপথ কাঠ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র রেখে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।” তিনিও ডেকরেটর্স সংস্থার দিকেই আঙুল তুলেছিল।

রবিবার রাতে গঙ্গাধরের ওই গুদামে ছিলেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে কেউ ফুলের কাজ করেন, কেউ আবার সাজানোর কাজে যুক্ত। বিভিন্ন জেলা থেকে তাঁরা কাজে গিয়েছিলেন। কাজ সেরে তাঁদের মধ্যে অনেকেই ঘুমোচ্ছিলেন। কেউ কেউ আবার টুকিটাকি নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আগুন লাগার পর কয়েক জন বার হতে পারলেও অনেকেই আটকে পড়েন।

Anandapur Suvendu Adhikari
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy