‘‘লেভিওসাআআআ নয়, লেভিওওওসা!’’
এক দিকে জাদু শেখাচ্ছে হারমায়নি গ্র্যেঞ্জার। পাশে ক্যামেরার জন্য পোজ দিতে ব্যস্ত দ্য রিডলার, ক্যাট ওম্যান এবং ব্ল্যাক ক্যাট। একটু দূরেই ছুরি-তরোয়ালের টক্করে ব্যস্ত নারুতো আর এর্জা স্কারলেট। ট্যাটু, সবুজ চুলে নজর কাড়ায় পিছিয়ে নেই জোকারও।
সম্প্রতি এমনই দৃশ্য দেখা গেল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইআইইএসটি)। সৌজন্যে কলকাতা কমিক কার্নিভাল। কমিকপ্রেমীদের নিয়ে আয়োজিত তিন দিনের এই উৎসবে কমিক, তা থেকে তৈরি সিনেমা, ফ্যান্টাসি গল্প, টিভি সিরিজ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক, ক্যুইজ, ফ্যান ফিকশন লেখার প্রতিযোগিতার সঙ্গে ছিল ‘কসপ্লে’ অর্থাৎ কস্টিউম প্লে-ও। এতে ভক্তেরা সেজেছিলেন প্রিয় চরিত্রের আদলে। ছিল কমিক বই, পোস্টার, সুপারহিরোর অ্যাকশন ফিগারের পসরাও।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো শহরে ১৯৭০ সালে হয়েছিল প্রথম ‘কমিক কন’ অর্থাৎ কমিক কনভেনশন। ৩০০ জনকে নিয়ে শুরু হওয়া সেই সম্মেলনের টানে আজ সারা পৃথিবী থেকে আসেন দেড় লক্ষেরও বেশী মানুষ। মূলত কমিক ও সায়েন্স ফিকশনের ভক্তদের নিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে যোগ হয়েছে ফ্যান্টাসি, ভিডিও গেম, হরর, অ্যানিমেশন সিরিজের মতো ধারা। হাজির থাকেন বিখ্যাত লেখক থেকে হলিউডের তাবড় অভিনেতারা।
সান দিয়েগোর আদলে বিশ্বের অনেক শহরে, এমনকি দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরুতেও শুরু হয়েছে কমিক কন। তবে পূর্ব ভারতে এমন অনুষ্ঠান এই প্রথম। উদ্যোক্তাদের অন্যতম, আইআইইএসটি-র ছাত্র সপ্তাশ্ব বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, ‘‘কমিক কার্নিভাল করার ভাবনা মাথায় আসার পরে আমরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মতামত নিয়েছি। বহু মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা চান কলকাতায় এ রকম কিছু শুরু হোক। তার পরেই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমরা।’’
ছেলে কমিক নিয়ে কেন এত উৎসাহী বোঝার জন্য সাফল্যের সঙ্গে এসেছিলেন মা চিত্রা গুহঠাকুরতাও। জাপানি অ্যানিমে চরিত্র ওবিতো উচিহার পোশাক ও মুখোশ বানাতে সাফল্যের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন মা এবং মেসো।
‘কনজিওরিং টু’ সিনেমার ‘ইভিল নান’-এর সাজে দেখা মিলল গ্রেসি চ্যানের। এসেছেন হায়দরাবাদ থেকে। বছর দু’য়েক আগে থেকে বিভিন্ন কমিক কন-এ যোগ দেন। জানালেন, কিছুক্ষণের জন্য কল্পনার জগৎটাকে বাস্তবায়িত করার জন্যই সাজেন প্রিয় চরিত্রের পোশাকে। সঙ্গে বাড়তি পাওনা অন্য ভক্তদের সঙ্গে আলোচনা-আড্ডা।
দেড়শো জনের কিছু বেশি উৎসাহীর ভিড়টা ঘুরছিল এক স্টল থেকে অন্য স্টলে। নতুন বই নিয়ে বিতর্কের মাঝেই হ্যারি পটার ভক্তের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গেল ব্যাটম্যান প্রেমীর। প্রথমবার এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে গিয়ে কিছু কিছু সমস্যা হলেও হাল ছাড়তে নারাজ উদ্যোক্তারা। জানালেন, আরও সাড়া পেলে চেষ্টা করবেন প্রতি বছরই কার্নিভালের আয়োজন করার।