ওষুধ সব দামি। ব্র্যান্ডেড অ্যান্টিবায়োটিক ও মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট (ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড-যুক্ত)। ১০-১৫টার দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। মেয়াদ শেষে ওই ওষুধ পৌঁছে যাওয়ার কথা প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছে। তার বদলে তা ফিরে আসছে বাজারে, নতুন স্টিকার লাগিয়ে। আর এই চক্রের পিছনে প্রস্তুতকারী সংস্থারই হাত দেখছেন রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের কর্তারা।
সম্প্রতি বড়বাজার ও হাওড়ার বিভিন্ন দোকানে হানা দিয়ে পুলিশ এমনই সব ওষুধ আটক করেছে। ড্রাগ কন্ট্রোলের কর্তারা জানান, এই কারবার স্বাস্থ্য-সঙ্কট তৈরি করতে পারে। বড়বাজারের দোকানগুলি থেকে অপেক্ষাকৃত কম দামে ওষুধ যাচ্ছে গোটা রাজ্যে। তাই বিপদটা গোটা রাজ্যেরও। এই ঘটনায় কয়েক জন ধরাও পড়েছে। ড্রাগ কন্ট্রোলের প্রাথমিক তদন্ত বলছে, ওষুধগুলি মূলত হিমাচল প্রদেশের নানা সংস্থার তৈরি। এত দিন কী করছিল ড্রাগ কন্ট্রোল সংস্থা? জালিয়াতি কী ভাবে চলছিল, জানতে চায় স্বাস্থ্য ভবনও।
ড্রাগ কন্ট্রোলের ইনস্পেক্টর জয়দেব ভট্টাচার্য জানান, ব্যবসা চলছিল এমন দোকানে, যেগুলি খাতায়-কলমে প্রিন্টিং হাউস কাম ক্যুরিয়ার সার্ভিস। সেগুলি ড্রাগ কন্ট্রোলের অভিযানের আওতায় পড়ে না। তাঁর দাবি, ‘‘এই কারবার চলছে এক-দেড় বছর।’’ ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল-এর উপ সভাপতি অলোক দে-র অভিযোগ, ‘‘প্রতি মাসে কত ওষুধ বিক্রি হচ্ছে ও কত ওষুধ মেয়াদ-উত্তীর্ণ হয়ে ফেরত আসছে, তা নথিভুক্ত করার কথা ওষুধ সংস্থার। তা পরীক্ষা করে স্টক মিলিয়ে দেখবে ড্রাগ কন্ট্রোল। সেখানে ফাঁক থাকছে বলেই জালিয়াতি বাড়ছে।’’
রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলার চিন্তামণি ঘোষ জানান, ধৃতেরা জানায়, তারা মেয়াদ-উত্তীর্ণ ওষুধ পায় প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি থেকেই। মেয়াদ-উত্তীর্ণ হয়ে ওষুধ ফেরত এলে বিক্রেতাদের সেই দাম ফেরত দেওয়া ও সেই ওষুধ নষ্ট করে ফেলার যে খরচ, তা বহন করতে চাইছে না সংস্থাগুলি। তাঁর দাবি,তাই জালিয়াতি ব্যবসায়ীরা উৎসাহ পাচ্ছে।