Advertisement
E-Paper

KMC: ব্যয় কমাতে অস্থায়ী নিয়োগে রাশ টানার ভাবনা পুরসভার

পাশাপাশি, অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মীদের পুননির্য়োগ বন্ধ করার কথাও বলেছিলেন ফিরহাদ।

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০২১ ০৬:৪৭
ফাইল চিত্র।

ফাইল চিত্র।

কোষাগারের সঞ্চয় তলানিতে। বিভিন্ন বিভাগ থেকে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণও সন্তোষজনক নয়। এমন অবস্থায় কলকাতা পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পুনর্নিয়োগ এবং অস্থায়ী ও চুক্তিভিক্তিক কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থা দ্বারা কর্মী নিয়োগে রাশ টানতে চায় পুরসভা। এ বার থেকে ওই সমস্ত কর্মীর কাজের মূল্যায়ন করবেন সংশ্লিষ্ট দফতরের বিভাগীয় আধিকারিকেরা। বিভাগীয় আধিকারিকেরাই পার্সোনেল বিভাগকে রিপোর্ট দিয়ে জানাবেন, ওই সমস্ত কর্মীর পুনর্নিয়োগের আদৌ প্রয়োজন রয়েছে কি না।

পুরসভার সদর দফতর ছাড়াও ১৬টি বরো অফিস এবং বিভিন্ন শ্মশানঘাট ও কবরস্থানে যত জন অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছেন, তাঁদের কাজের উপরে নজরদারি নিেয় পার্সোনেল বিভাগের তরফে তথ্যভান্ডারও তৈরি করা হয়েছে। পুরসভার এক শীর্ষ কর্তার কথায়, ‘‘অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন দিতে পুরসভাকে প্রতি মাসে মোটা টাকা গুনতে হয়। এই সমস্ত কর্মীর কাজের মান যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় আধিকারিকের রিপোর্ট সন্তোষজনক হলে তাঁদের পুনর্নিয়োগ করা হবে। অন্যথা নয়।’’

পুরসভার স্থায়ী, অস্থায়ী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বেতন ও পেনশন দিতে মাসে প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা খরচ হয় বলে সূত্রের খবর। প্রায় ১৮ হাজার স্থায়ী কর্মীর জন্য মাসে ৭৮ কোটি এবং ২০ হাজার অস্থায়ী কর্মীর বেতন বাবদ খরচ হয় ১৫ কোটি টাকা। ৩৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর জন্য মাসে খরচ হয় ৪০ কোটি টাকা। স্থায়ী কর্মীদের মোট বেতনের ৮৫ শতাংশ রাজ্য সরকার বহন করে। বাকি ১৫ শতাংশ পুরসভাকে বহন করতে হয়। আবার অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনের ৬০ শতাংশ পুরসভা দেয়। কিন্তু অস্থায়ী কর্মীদের বেতনের পুরো টাকাটাই পুরসভাকে বহন করতে হয়।

পুরসভা সূত্রের খবর, অস্থায়ী কর্মীদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ায় মাসকয়েক আগে বিদায়ী প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন ফিরহাদ হাকিম নিয়োগে রাশ টানতে তথ্যভান্ডার তৈরির কথা বলেছিলেন। ফিরহাদের যুক্তি ছিল, তথ্যভান্ডার তৈরি হলে তার উপরে পুর কর্তৃপক্ষ নজরদারি করতে পারবেন। তাতে কাজে স্বচ্ছতাও বজায় থাকবে।

পাশাপাশি, অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মীদের পুননির্য়োগ বন্ধ করার কথাও বলেছিলেন ফিরহাদ। পুরসভা সূত্রের খবর, ফিরহাদের ওই নির্দেশকে মাথায় রেখেই পুরসভার পার্সোনেল বিভাগের তরফে অস্থায়ী চুক্তিভিক্তিক কর্মীদের তালিকা-সহ পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়েছে। পুরসভা সূত্রের খবর, এত দিন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা তদ্বির করে কাজের মেয়াদ (এক্সটেনশন) বাড়াতেন। পার্সোনেল বিভাগের তরফে নয়া বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার বলা হয়েছে, অবসরের পরেও এক্সটেনশনে থাকা কর্মীদের আদৌ পুনর্নিয়োগ দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে বিভাগীয় আধিকারিকেরা কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

পুরসভার এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, ‘‘পুরসভার সদর দফতর, বরো অফিস ও অন্যত্র নিযুক্ত অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার ছিল না। পুরসভা আর নতুন করে এই ধরনের কর্মী নিয়োগ করবে না। ওই তথ্য হাতে থাকায় অবৈধ ভাবে নতুন কোনও নিয়োগ হলে তা বোঝা সহজ হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy