E-Paper

পুলিশি অভিযান হোটেল বুকিংয়ে জালিয়াতি রুখতে, ধৃত চক্রের মাথা

প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, হুজাইফা এবং চক্রের বাকি সদস্যেরা বিভিন্ন হোটেলের নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে (ক্লোন) সাধারণ নাগরিকদের প্রতারণা করত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

হোটেল বুক করতে গিয়ে সাইবার প্রতারকদের খপ্পরে পড়া নতুন ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরে পুরী ও দিঘার বিভিন্ন হোটেল বুক করতে গিয়ে প্রতারণার কবলে পড়েছেন অনেকেই। প্রতারকদের এই কৌশল বন্ধ করতে এ বার তাদের মাথার খোঁজে হানা দিল কলকাতা পুলিশ। লালবাজার জানিয়েছে, পুরীর একটি নামী হোটেলের নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রতারণার অভিযোগে এই চক্রের এক চাঁইকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানা। ধৃতের নাম হুজাইফা শাব্বির দরবার। মঙ্গলবার ভোরে পুণের কন্ধওয়া খুর্দ এলাকা থেকে তাকে ধরা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হুজাইফা পেশায় ওয়েব ডেভেলপার। তার বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে মোবাইল, ল্যাপটপ এবং একটি পেন ড্রাইভ।

প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, হুজাইফা এবং চক্রের বাকি সদস্যেরা বিভিন্ন হোটেলের নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে (ক্লোন) সাধারণ নাগরিকদের প্রতারণা করত। এই কায়দায় তারা এখনও পর্যন্ত ৮৩ জনকে ঠকিয়ে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা লুট করেছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, হোটেল বুক করার নামে প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন, গত কয়েক মাসে এমন ভূরি ভূরি অভিযোগ এসেছিল। তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, এর পিছনে সক্রিয় রয়েছে একটি চক্র। যার অন্যতম মাথা হুজাইফা।

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের মে মাসে পুরীর একটি হোটেল বুক করতে গিয়ে প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে কয়েক হাজার টাকা খোয়ান হরিদেবপুরের এক বাসিন্দা। ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি ইন্টারনেট থেকে পুরীর একটি বহুল পরিচিত হোটেলের ওয়েবসাইটের ঠিকানা পান। প্রথমে অভিযোগকারীকে বলা হয় একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে এক টাকা পাঠাতে। এর পরে সংশ্লিষ্ট হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার ও সিনিয়র ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে অনুজকুমার সোলাঙ্কি নামে এক ব্যক্তি অভিযোগকারীকে ফোন করে বলেন, তিনি যেন আরও টাকা পাঠান। সেই মতো হরিদেবপুরের ওই বাসিন্দা প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।

অভিযোগ, এর পরে ইউপিআই মারফত লেনদেনে গোলযোগের অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে বলা হয়, লেনদেন ঠিক মতো সম্পন্ন হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো টাকা দেওয়ার পরেও বুকিং নিশ্চিত হয়নি দেখে ওই ব্যক্তির সন্দেহ হয়। তিনি ইন্টারনেট থেকে পাওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে কেউ ফোন ধরেনি। তখনই ওই ব্যক্তি বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারকদের কবলে পড়েছেন।

তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দারা বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাঙ্ক, ডোমেন সার্ভিস প্রোভাইডার এবং মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার কাছ থেকে নানা তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পারেন, প্রতারকেরা বিদেশের লিঙ্ক ব্যবহার করেছে। সেগুলি থেকে পুলিশ একটি ইমেল আইডি উদ্ধার করে। যার সূত্র ধরে সন্ধান মেলে হুজাইফার।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Kolkata Police Cyber Crime Branch puri

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy