Advertisement
E-Paper

গাড়ির দূষণ পরীক্ষায় নয়া যন্ত্র পুলিশের হাতে

তিনটি গাড়ি, আর ২২ জন কর্মী। এ নিয়েই এত দিন কলকাতার রাস্তায় গাড়ি আটকে দূষণ পরীক্ষা করত লালবাজারের ‘অ্যান্টি পলিউশন সেল’।

শিবাজী দে সরকার

শেষ আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৬ ০২:১৫

তিনটি গাড়ি, আর ২২ জন কর্মী। এ নিয়েই এত দিন কলকাতার রাস্তায় গাড়ি আটকে দূষণ পরীক্ষা করত লালবাজারের ‘অ্যান্টি পলিউশন সেল’। যেখানে শহরের ১,৮৭০ কিলোমিটার রাস্তায় প্রতি দিন গড়ে সাত লক্ষ গাড়ি চলে, সেখানে কমজোরি ওই সেলের অভিযান কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল পুলিশের অন্দরেই। সম্প্রতি সেই ঘাটতি মিটেছে। দূষণ পরীক্ষার ২২টি নতুন যন্ত্র কিনেছে ট্র্যাফিক পুলিশ। ইতিমধ্যে সেগুলি ট্র্যাফিক গার্ডের হাতে তুলেও দেওয়া হয়েছে। তা দিয়েই হবে পরীক্ষা।

দূষণ পরীক্ষার সরঞ্জাম সমেত যে দু’টো পুলিশের গাড়ি রাস্তায় দেখা যায়, তার একটি থাকে ফোর্ট উইলিয়ামের সামনে। বিদ্যাসাগর সেতু বা খিদিরপুর থেকে যে গাড়িগুলি কলকাতামুখী রাস্তা ধরে, সেগুলি থামিয়ে দূষণের শংসাপত্র পরীক্ষা করেন পুলিশকর্মীরা। কিন্তু যে গাড়িগুলি দাঁড় করানো হয়, তার অধিকাংশই দুই ও চার চাকার প্রাইভেট গাড়ি। অথচ পুলিশের পাশ কাটিয়ে, গতি বাড়িয়ে, ধোঁয়া ছড়িয়ে অবলীলায় চলে যায় বাস ও হলুদ ট্যাক্সি। পুলিশের একাংশের বক্তব্য, বাস দাঁড় করালে যাত্রীরাই এগিয়ে এসে তর্ক জুড়ে দেন। তাই বাস-ট্যাক্সি এড়িয়ে চলেন তাঁরা।

রাতে খিদিরপুর থেকে বিদ্যাসাগর সেতুতে ওঠার মুখে লরি দাঁড় করিয়ে শংসাপত্র পরীক্ষা করতে দেখা যায় পুলিশকে। এতে সার দিয়ে লরি দাঁড়িয়ে পড়ায় যানজট হয় প্রায়শই। পথচারীদের প্রশ্ন, ওই অন্ধকারে টর্চ জ্বালিয়ে দূষণ পরীক্ষা কতটা যথার্থ হয়? নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্যে লরি দাঁড় করায় পুলিশের একাংশ? লালবাজারের অবশ্য দাবি, দিনে শহরে লরি চলে না। তাই রাতেই দূষণ পরীক্ষা করতে হয়।

Advertisement

পুলিশ জানাচ্ছে, এখন প্রতি দিন গড়ে আড়াইশো গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়। নতুন গাড়ি পথে নামলে সংখ্যাটা বাড়বে। সেপ্টেম্বরে বায়ু ও শব্দদূষণ মামলা করে ১১ লক্ষ টাকা আয় করেছে পুলিশ। অক্টোবরে সাড়ে ছ’লক্ষে।

দীপাবলির পরপরই দূষণের জেরে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল রাজধানী দিল্লির জনজীবন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, দূষণের নিরিখে দিল্লি দেশের মধ্যে প্রথম। তার পরেই কলকাতা। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে কলকাতার মার্কিন কনসাল জেনারেল ক্রেগ হল জানান, দূষণের নিরিখে কোনও কোনও দিন কলকাতা টেক্কা দেয় দিল্লিকে। এ রাজ্যে কোন উৎস থেকে কতটা দূষণ হয়, তার তথ্য সরকারের হাতে নেই। পরিবেশবিদেরা অবশ্য বলছেন, কলকাতায় রাস্তায় গাড়ি থেকেই বেশি দূষণ হয়। গাড়ির ইঞ্জিন পুরনো হলে বা রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথ না হওয়ায় দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি কলকাতার দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় পরিবেশ আদালত।
দূষণ প্রতিরোধে একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

car pollution testing machine Kolkata police
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy