হেলমেট ছাড়া বাইক নিয়ে বার হলেই শাস্তি। রাজ্যে নতুন সরকারের নির্দেশে আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। সারা শহরে শুরু হয়েছে হেলমেট ছাড়া বাইকচালকদের ধরপাকড় এবং বেআইনি ভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের এলাকায় ৭৭৫ জন হেলমেট ছাড়া বাইকচালক ধরা পড়েছেন। ১৫২৬টি বেআইনি পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করা হয়েছে।
কলকাতার নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় হেলমেটবিহীন চালকদের যাতায়াত বেশি বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি, ওই জায়গাগুলিতে সিগন্যাল না-মানার অভিযোগও বিস্তর। বহু বাইকআরোহী নিয়ম না-মেনে ব্যস্ত রাস্তায় বাইক চালান। রাতের দিকে একাধিক জায়গায় দ্রুতগতিতে বাইক চালানোর প্রবণতাও দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে বেপরোয়া বাইক চালানোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ ছিল। এ বার সেই পরিস্থিতি বদলাতে সক্রিয় হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বৃহস্পতিবার খিদিরপুর থেকে পার্ক সার্কাস এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি ছিল কড়া।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, এমন কিছু জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বৃস্পতিবার শহরের সাউথ ট্রাফিক গার্ডে সবচেয়ে বেশি বেআইনি পার্কিং ধরা পড়েছে। বেলা ১২টা পর্যন্ত ৫৭টি এবং ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ১৫০টি বেআইনি পার্কিং ধরেছে পুলিশ। হেলমেট ছাড়া চালকের সংখ্যা বেশি ধরা পড়েছে ইস্ট ট্রাফিক গার্ড অঞ্চলে। বিকেল পর্যন্ত ৯১ জনকে ধরেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্প্রতি নবান্ন একটি নির্দেশিকায় জানিয়েছিল, বাইকচালকদের হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক। তা নিশ্চিত করতে কড়া নজরদারি চালাতে হবে পুলিশকে। তার পর কলকাতা তো বটেই, রাজ্যের ছোট-মাঝারি শহর এবং মফস্সলেও কড়াকড়ি দেখা যাচ্ছে। কলকাতার ক্ষেত্রে হেলমেটবিহীন বাইকচালকদের নিয়ে এডিজি ট্রাফিককে নিয়মিত রিপোর্ট সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও রাস্তায় দিনভর নজরদারি চালানো হচ্ছে। নিয়ম ভাঙলেই সঙ্গে সঙ্গে মামলা করা হচ্ছে। প্রশাসনের বক্তব্য, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।