E-Paper

অনুমোদন কত টাকায়, জানতে মরিয়া পুলিশ

পুলিশ সূত্রের খবর, গুদাম নির্মাণ শুরু হওয়ার আগে আদৌ মাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে জানতে বন্দর কর্তৃপক্ষকেও চিঠি দিয়েছে লালবাজার। জমি লিজ়ের ক্ষেত্রেও কোনও ‘দালাল’ ছিলেন কি না, তা-ও জানতে চাইছে পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০৬:৩০
তারাতলায় ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ গুদামের কাঠামো।

তারাতলায় ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ গুদামের কাঠামো। — ফাইল চিত্র।

ভেঙে পড়া গুদামের নকশা অনুমোদনে ঠিক কত টাকার লেনদেন হয়েছিল, আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই নকশা অনুমোদনে যে আর্থিক লেনদেন হয়েছিল, সে ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত তদন্তকারীরা। ধৃত আব্দুল হামিদ এই নকশা অনুমোদনে ‘দালাল’ হিসেবে কাজ করেছিলেন বলেও জেরায় স্বীকার করেছেন। তবে ঠিক কত টাকার লেনদেন হয়েছিল এবং কার কার কাছে সেই টাকা পৌঁছেছিল, তা জানা এখনও বাকি। পুলিশ সূত্রের খবর, হামিদকে জেরা করে কিছু সূত্র ও তথ্য মিলেছে। নকশা অনুমোদনের বিষয়ে জানতে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগেও যোগাযোগ করেছেন তদন্তকারীরা। নোটিস গিয়েছে দুই প্রাক্তন মন্ত্রীর কাছেও।

লালবাজার সূত্রের খবর, এই ঘটনায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) ধৃত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। রবিবার তাঁর হাওড়ার ফ্ল্যাটে তল্লাশি করে দু’টি মোবাইল এবং বিল্ডিংয়ের অনুমোদন সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র পাওয়া গিয়েছে। কালীচরণকে দফায়-দফায় জেরা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, কিছু প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। গুদামের জমির ‘লিজ় হোল্ডার’ শম্ভুনাথ বেহরাও সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না।

পুলিশ সূত্রের খবর, গুদাম নির্মাণ শুরু হওয়ার আগে আদৌ মাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে জানতে বন্দর কর্তৃপক্ষকেও চিঠি দিয়েছে লালবাজার। জমি লিজ়ের ক্ষেত্রেও কোনও ‘দালাল’ ছিলেন কি না, তা-ও জানতে চাইছে পুলিশ। কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তদন্তের আওতায় এসেছে।

এ দিকে তারাতলা বিপর্যয়ের পরেই কলকাতা পুরসভাও একাধিক পদক্ষেপ করেছে। নির্মাণকাজ শুরু করার আগে নির্মাণকারী এবং মালিকপক্ষকে এ বার থেকে বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে পুরসভা। এই মর্মে আদর্শ কর্মপদ্ধতি (এসওপি) তৈরি করা হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রের খবর। ওই সূত্রের দাবি, পুরসভা থেকে নকশা অনুমোদনের পর নির্মাণকারী সংস্থা বা আবেদনকারী পুরসভার বিল্ডিং দফতরে নির্দিষ্ট বয়ানে তথ্য দেবেন। সেই বয়ানে কোন ওয়ার্ডে নির্মাণ কাজ হচ্ছে, কতটা জায়গা জুড়ে নির্মাণকাজ হবে, তা জানাতে হবে। এ ছাড়াও, যে ঠিকানায় নির্মাণ কাজ হবে সেখানকার ‘অ্যাসেসি’ নম্বর, ‘প্রেমিসেস’ নম্বর লিখতে হবে। নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত এলবিএস (লাইসেন্স বিন্ডিং সার্ভেয়ার), স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়রের নাম, মোবাইল নম্বর, ই-মেল আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হবে। শ্রমিকের ঠিকাদার, নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারীর নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ই-মেল আবেদনপত্রে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Taratala police investigation Lalbazar

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy