Advertisement
E-Paper

পুরসভার ভরসা ওয়ার্ড সর্দারেই

গত বছর নতুন করে পুর এলাকায় সম্পত্তি কর মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পুরসভা সূত্রের খবর, দক্ষিণ দমদম পুর এলাকায় মোট ১ লক্ষ আট হাজার হোল্ডিং রয়েছে। কার সম্পত্তি কর বেড়ে কত হল, তা চিঠি দিয়ে জানাতে পুরসভা একটি ক্যুরিয়র সংস্থাকে বরাত দিয়েছিল।

সৌরভ দত্ত

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০১৮ ০২:৩০
—ফাইল চিত্র।

—ফাইল চিত্র।

ক্যুরিয়র বিভ্রাটের জেরে ভূমিকা বদল ওয়ার্ড সর্দারদের। সম্পত্তি করের অর্থে পুরসভার ভাঁড়ার ভরাতে এখন তাঁরাই ভরসা দক্ষিণ দমদম পুর কর্তৃপক্ষের।

গত বছর নতুন করে পুর এলাকায় সম্পত্তি কর মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পুরসভা সূত্রের খবর, দক্ষিণ দমদম পুর এলাকায় মোট ১ লক্ষ আট হাজার হোল্ডিং রয়েছে। কার সম্পত্তি কর বেড়ে কত হল, তা চিঠি দিয়ে জানাতে পুরসভা একটি ক্যুরিয়র সংস্থাকে বরাত দিয়েছিল। নাগরিকেরা সকলেই কর বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি পেয়েছেন, এমনই ধারণা ছিল কর্তৃপক্ষের। যাঁরা বর্ধিত করের সঙ্গে সহমত ছিলেন না, তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে শুনানির জন্য ডাকা হয়।

তখনই কর্তৃপক্ষ জানতে পারেন যে, অনেকেই বিজ্ঞপ্তি হাতে পাননি। পুরসভা সূত্রের খবর, সেই সংখ্যাটা আনুমানিক ১০ হাজার। এক পুর আধিকারিক জানান, আইনানুযায়ী সকলকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বর্ধিত করের বিষয়টি জানাতে হবে। যাঁরা বিজ্ঞপ্তি পাননি, তাঁদের ফের শুনানির সুযোগ দিতে ভ্যালুয়েশন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা।

এই ঘটনার পরে পুরসভার মাসিক অধিবেশনে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সম্পত্তি করের চূড়ান্ত নোটিস পাঠানোর সময় ক্যুরিয়র পরিষেবা আর নয়। বিকল্প হিসাবে আস্থা ওয়ার্ড সর্দারদের উপরে। পুরকর্তাদের যুক্তি, ওয়ার্ড সর্দারেরা নিজের ওয়ার্ডের ভূগোল জানেন। বাসিন্দাদের ঠিকানাও জানেন। তাই পুরসভার আর্থিক স্বাস্থ্যরক্ষার প্রশ্নে এই কর্মীরা অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য হবেন বলে দাবি পুরসভার।

তবে উল্টো মতও রয়েছে। পুর আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, ওয়ার্ড সর্দারদের প্রধান কাজ, জঞ্জাল অপসারণ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখা। বছরের এই সময়ে ডেঙ্গি মোকাবিলায় বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। এখন এই অতিরিক্ত কাজের চাপে সে দিকে নজরদারি ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। সেই বক্তব্য খারিজ করে এক পুরকর্তার যুক্তি, ‘‘ওয়ার্ড সর্দারদের ডিউটি দুপুর বারোটা পর্যন্ত। বর্ধিত করের বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর কাজ তার পরে করতে বলা হয়েছে। কারণ এর জন্য তাঁরা বাড়তি টাকা পাচ্ছেন।’’ কিন্তু বারোটার পরেই যে ওয়ার্ড সর্দারেরা সেই কাজ করছেন, তার নিশ্চয়তা কোথায়? প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি ওই পুরকর্তা।

দৈনন্দিন কাজ সেরে নতুন ভূমিকায় ওয়ার্ড সর্দারেরা সফল, তা অবশ্য বলছেন না পুরপ্রধানও। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের হোল্ডিং নম্বর এলোমেলো। তাই অসুবিধা হচ্ছে ওয়ার্ড সর্দারদের। ওয়ার্ড পরিষ্কার সেরে বাড়তি কাজ করতে পারছেন না, এমনও অনেক ওয়ার্ড সর্দার আছেন। এ ক্ষেত্রে পুরকর্মীদের যাঁরা হোল্ডিং নম্বর চেনেন, তাঁদের পাঠানো হচ্ছে।’’

KMC Ward Sardars
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy