Advertisement
E-Paper

Durga Puja 2021: করোনার দোসর বন্যাও, রোজগারে টান মোটবাহকদের

মৃৎশিল্পীদের স্টুডিয়ো থেকে মণ্ডপে প্রতিমা বয়ে নিয়ে যাওয়াটাই ওঁদের বাড়তি রোজগারের পথ।

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২১ ০৬:৫৯
জীবনযুদ্ধ: চলছে প্রতিমা বাহকদের রান্না। রবিবার, কুমোরটুলিতে।

জীবনযুদ্ধ: চলছে প্রতিমা বাহকদের রান্না। রবিবার, কুমোরটুলিতে। ছবি: স্বাতী চক্রবর্তী।

বন্যায় কারও বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। কারও জমির ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কেউ বা পুকুরে যেটুকু মাছ চাষ করেছিলেন, সেটাও ভেসে গিয়েছে। তার মধ্যে যে রোজগারের আশায় এ শহরে আসা, এ বার পূর্ণ হল না তা-ও।

মৃৎশিল্পীদের স্টুডিয়ো থেকে মণ্ডপে প্রতিমা বয়ে নিয়ে যাওয়াটাই ওঁদের বাড়তি রোজগারের পথ। সেই আশায় প্রতি বছরের মতো এ বারেও হাজির হয়েছিলেন পটুয়াপাড়ায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং, সুন্দরবন থেকে এ বছর মহালয়ায় কলকাতায় পা রেখেছেন এমন প্রায় হাজার দুয়েক মানুষ। কুমোরটুলিতে ওঁরা মোটবাহক বলেই পরিচিত। সেই স্বপন মণ্ডল, সুদেব মণ্ডল, কৌশিক রায় অথবা কাশীনাথ মণ্ডলদের বাড়ির উঠোনে এখনও জল। মাটির ঘর বানের তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় গোয়ালঘরটাই মানুষ আর পশুর শোয়ার ঘর এখন।

ক্যানিং দু’নম্বর ব্লকের মঠেরদিঘির বাসিন্দা সুদেব মণ্ডল বলেন, ‘‘করোনা আর বন্যা, দুটোই আমাদের ভাত কেড়ে নিল। গত তিন মাসে তিনটি বন্যায় ঘরদোর, চাষ-আবাদ পুরো নষ্ট হয়েছে। গত কুড়ি বছর ধরে মহালয়ার দিনে কুমোরটুলিতে আসছি। সংক্রমণের আতঙ্কে প্রতিমার উচ্চতা ছোট হওয়ায় আমাদের কাজের ভাল দর পাইনি। অনেকেই করোনার দোহাই দিয়ে প্রতিমা বইতে বেশি টাকা দিতে চাননি।’’ ২০১৯ সালে যেখানে এক জন মুটে দিন সাতেক কলকাতায় থেকে আয় করেছেন সাত-আট হাজার টাকা, সেখানে গত বছর আয় হয়েছিল চার হাজার টাকা। এ বার আয় আরও কমে তিন হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দেওয়ার পালা শেষ। আজ, ষষ্ঠীতে ওঁরা নিজের ঘরে ফিরে যাচ্ছেন। অন্যান্য বছর রোজগারের টাকায় পরিবারের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনে নিয়ে যেতেন। ক্যানিংয়ের কেওটি গ্রামের বাসিন্দা মানিক হালদারের কথায়, ‘‘কী ভাবে দু’বেলা খাব, সেটাই এখন চিন্তা। জামাকাপড় কেনার কথা ভাবছিই না।’’ তবে একরত্তি নাতিদের জন্য প্রতিমা বহনের ফাঁকে সময় বার করে শ্যামবাজার থেকে দু’টি জামা কিনেছেন স্বপন মণ্ডল। তাঁর কথায়, ‘‘বড়দের জন্য কিছু না নিয়ে গেলেও হবে। ওই দুটো বাচ্চার জন্য নতুন জামা না নিলেই নয়। ওদের নতুন জামা দেওয়ার কথা দিয়ে এসেছি যে!’’

মহালয়ার দিন থেকে গঙ্গাপাড়ে খোলা আকাশই ঠিকানা ছিল। দু’বেলা কোনও রকমে খেয়ে সামান্য রোজগারের যে টাকা বাড়িতে নিয়ে যাবেন, তা-ও লেগে যাবে দেনা মেটাতে। সুন্দরবনের অমল আগুয়ানের কথায়, ‘‘মাছচাষ করেছিলাম। বর্ষায় মাছ ভেসে গিয়েছে। সেই দেনা আগে মেটাব।’’ ‘কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংস্কৃতি সমিতি’র যুগ্ম সম্পাদক বাবু পাল বলেন, ‘‘করোনা আর বন্যার জোড়া জাঁতাকলে প্রতিমা বহন করার বরাতেও করুণ অবস্থা।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy