E-Paper

আইএসআই বিল নিয়ে প্রতিবাদের সুর সমাবর্তন-মঞ্চেও

চাপা জল্পনা ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবিত আইএসআই বিলের হাত ধরে জাতীয় গুরুত্ববাহী এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির খোলনলচে বদলানোর আগে এটাই কি কলকাতার সদর দফতরে শেষ সমাবর্তন?

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪৮
কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট‍্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট।

কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট‍্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট। —ফাইল চিত্র।

বুকে আঁটা ব‍্যাজের গায়ে ২০২৫-এর আইএসআই বিল বর্জন করার ডাক। কেন্দ্রীয় সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারিকরণ রুখে দেওয়ারও আহ্বান সেখানে। সেই ব‍্যাজ পরেই সমাবর্তনের মঞ্চে পিএইচ ডি ডিগ্রি নিতে উঠছিলেন শিক্ষার্থীরা। যা দেখে নিষেধ করলেন কয়েক জন শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী। মঙ্গলবার বিকেলে এই প্রতিবাদের আবহই ভিন্ন মাত্রা যোগ করল কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট‍্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে।

চাপা জল্পনা ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবিত আইএসআই বিলের হাত ধরে জাতীয় গুরুত্ববাহী এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির খোলনলচে বদলানোর আগে এটাই কি কলকাতার সদর দফতরে শেষ সমাবর্তন? সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তবে, বঙ্গ রেনেসাঁসের ফসল বিশ্ববরেণ‍্য এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির কাঠামো অটুট রাখার চেষ্টাও ভেসে উঠেছে অনুষ্ঠানে।

প্রতিবাদী ব‍্যাজ পরা শিক্ষার্থীদের অবশ্য বোঝানো হয়, সমাবর্তন-মঞ্চ প্রতিবাদের জায়গা নয়। অনেকে ব‍্যাজ খুলে পকেটে ভরে নেন। পরে মঞ্চে ডিগ্রি নেওয়ার সময়ে হাতে করেই ব‍্যাজটি মেলে ধরেন। অঙ্কে স্নাতকোত্তরের এক শিক্ষার্থী পরে বললেন, “প্রস্তাবিত আইএসআই বিল চালু হলে এখানে মেধাবী, অথচ গরিব শিক্ষার্থীদের সুযোগের রাস্তা কোণঠাসা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, নিখরচায় স্টাইপেন্ড বা ভাতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয় আইএসআইয়ে। প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট, বিজ্ঞানী শঙ্কর পালও এ দিন এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্টাইপেন্ড দিয়ে প্রকৃত প্রতিভাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের পড়ানোর ঐতিহ্যই মেলে ধরলেন। সেই সঙ্গে আইএসআই কলকাতার সর্বভারতীয় চরিত্র নিয়েও মুখর হয়েছেন বক্তারা।

গত বছর কিছুটা প্রথা ভেঙেই কলকাতার বদলে আইএসআইয়ের সমাবর্তন হয়েছিল দিল্লিতে। দিল্লির আইএসআইয়ের ৫০ বছর পূর্তি ছিল সে বার। আইএসআইয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা, অধ্যাপক অয়নেন্দ্রনাথ বসু বলেন, “বহু শাখা-ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের সমাবর্তন এ বার পুরনো ধারা মেনে সদর দফতর কলকাতায় ফিরে এসেছে।” ‘বহু শাখা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান’ বা ‘কলকাতার সদর দফতর’— এই চেনাজানা বিষয়গুলি বার বার উঠে এসেছে। পরে অয়নেন্দ্রনাথ বলেন, “আইএসআইয়ের বেশির ভাগ ছাত্র, শিক্ষক এখনও কলকাতায়। দিল্লি, বেঙ্গালুরু ও অন‍্য শাখাগুলির পঠনপাঠনে কখনও সখনও কলকাতার সদর দফতর থেকে সহায়তা করা হয়। অন্য শাখাগুলিও দরকারে সাহায্যের হাত বাড়ায়। এই পারস্পরিক সমন্বয়ে অখণ্ড সর্বভারতীয় সত্তাই আইএসআইয়ের ধারা। আইআইটিগুলির মতো বিচ্ছিন্ন স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান এখনও এখানে গড়ে ওঠেনি।” বাস্তবিক, সমাবর্তনে অন্য শাখাগুলি থেকেও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি, পদক নিতে কলকাতায় আসেন।

প্রধান অতিথি, আইআইএসসির প্রাক্তন অধিকর্তা, জৈব-রসায়নবিদ পদ্মনাভন বলরামও মৌলিক বিজ্ঞান চর্চার গুরুত্ব নিয়ে বলেন। পরে প্রশ্ন ওঠে, কেন্দ্রের মুনাফা-ভিত্তিক শিক্ষানীতি কতটা খাপ খাচ্ছে আইএসআইয়ের পঠনপাঠনের সঙ্গে? অয়নেন্দ্রনাথ এ ক্ষেত্রে ডেটা সায়েন্স, এআই-এমএল ইত‍্যাদির সংস্পর্শে রাশিবিজ্ঞান চর্চায় বদলের কথা বলেছেন। তাঁর মতে, “যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইএসআইয়ের পাঠ‍্যক্রমেও নানা রদবদল চলছে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

ISI Indian Statistical Institute Convocation

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy