বাইপাসে দুর্ঘটনার পরে দে পরিবারের আহত সদস্যেরা দাবি করেছিলেন, দেনা, আর্থিক সমস্যার কারণেই ছ’জন মিলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও এই দাবি নিয়েই তৈরি হয়েছে জল্পনা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট যে, দে পরিবারের তিন মহিলা সদস্যকেই খুন করা হয়েছিল! যদিও মৃতদের আত্মীয়দের দাবি, চামড়ার ব্যবসা করা দে পরিবারের যে আর্থিক অনটন ছিল, সে বিষয়ে কিছুই জানতেন না তাঁরা।
মুম্বই থেকে এসেছেন মৃত সুদেষ্ণার ভাই। ২০০৫ সালে তাঁর বাবা, মা মারা যান। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সুদেষ্ণার সঙ্গে শেষ বার কথা হয়েছিল তাঁর ভাইয়ের। কলকাতা থেকে মুম্বই ফিরে যাওয়ার আগে দিদিকে ফোন করেছিলেন। সে সময় দিদি আর্থিক সমস্যা নিয়ে কোনও কথা বলেছিলেন কি না, তা জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ার ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে মৃত্যু হয়েছে সুদেষ্ণার, রোমি এবং রোমির কিশোরী-কন্যার। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত হয়েছে। সেই হিসেবে, সম্ভবত মঙ্গলবারই তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, তার আগের দিনই ভাইয়ের সঙ্গে শেষ বার কথা বলেছিলেন সুদেষ্ণা। বুধবার সকালে দে পরিবারের তিন পুরুষ সদস্যের গাড়ি ধাক্কা দেয় বাইপাসের ধারে স্তম্ভে। তাঁরা এখন হাসপাতালে ভর্তি।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার সকালে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে রোমি দে, সুদেষ্ণা দে এবং এক কিশোরীর ময়নাতদন্ত হয়। সেখানে দাঁড়িয়েই আত্মীয়স্বজনেরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেন। এক আত্মীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘‘আমরা সব জানি। আপনাদের বলতে পারছি না। এটা আমাদের মধ্যেই থাকতে দিন।’’ অন্য এক পরিচিত উ়ড়িয়ে দেন আর্থিক সমস্যার অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘‘যা জীবনযাপন ছিল, যা বাড়ি! দেখে বোঝার উপায় ছিল!’’
হাসপাতালে এসেছিলেন মৃত রোমির বাবা। তিনি মেয়ে এবং নাতনিকে দেখতে এসে ভেঙে পড়েন। কিছুটা উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘‘এত কিছু জানতাম না!’’ মৃতার আর এক আত্মীয় বলেন, ‘‘এত কিছু টের পেলে কি এটা হতে দিতাম!’’ আর্থিক সমস্যার কথা দে পরিবার কি তাঁদের জানিয়েছিল? প্রশ্নের জবাবে তাঁরা স্পষ্ট জানান, এই নিয়ে কিছুই জানায়নি ওই পরিবার।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টের পরে অভিষিক্তা মোড়ের কাছে একটি স্তম্ভে ধাক্কা দিয়েছিল তাঁদের গাড়ি। প্রণয় এবং প্রসূন দাবি করেছিলেন, আত্মহত্যা করার জন্যই ওই পদক্ষেপ করেছিলেন তাঁরা। প্রণয়ের বয়ানও খতিয়ে দেখতে চায় পুলিশ।
- সোমবার রাতে প্রসূনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর দাদা প্রণয় দে এবং প্রণয়ের কিশোর পুত্র প্রতীপ এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রতীপ জানিয়েছে, কাকা তাকেও খুন করার চেষ্টা করেছিলেন। মঙ্গলবার প্রসূনকে আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। ৬ মার্চ পর্যন্ত তাঁকে পুলিশি হেফাজতে থাকতে বলা হয়েছে।
-
ট্যাংরাকাণ্ডের চার মাস পরে নতুন স্কুলে প্রতীপ, মাতৃহারা কিশোরের ভবিষ্যৎ আশ্রয় অবশ্য এখনও অনিশ্চয়তায়
-
ট্যাংরার দে পরিবারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বড়ভাই প্রণয়কে গ্রেফতার করল পুলিশ
-
নতুন স্কুল, নতুন ক্লাস, নতুন জীবনযুদ্ধে কিশোর! ট্যাংরার পরিবারে বিপর্যয়ের তিন মাস পর প্রতীপের জীবন-নামচা
-
ট্যাংরাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে কিশোর প্রতীপের বয়ান! গোপন জবানবন্দি নিতে নির্দেশ কোর্টের
-
কাকে কখন খুন? সব ঠিক বলছেন কি? প্রসূনকে ট্যাংরার বাড়িতে নিয়ে গেল পুলিশ, হল ঘটনার পুনর্নির্মাণ