পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে অটো এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি-র সঙ্কট এখনও কাটেনি। এ বার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এলপিজি-র জোগানের ক্ষেত্রে সমস্যার আঁচ কি পেট্রল এবং ডিজ়েলের উপরেও পড়তে চলেছে? এই প্রশ্নের মূলে রয়েছে রাজ্যের একাধিক পেট্রল পাম্প থেকে জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে জারি হওয়া নিয়ন্ত্রণ এবং বিধিনিষেধ।যার জেরে পাম্প মালিকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সম্ভাব্য ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে তাঁরা নিয়মিত পরিবহণ এবং জরুরি ক্ষেত্রে পরিষেবা স্বাভাবিক রেখে তেল বিক্রির পরিমাণ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি অবশ্য বৃহস্পতিবারেও এক্স হ্যান্ডলে তেলের জোগান মসৃণ রাখার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে।
পেট্রল পাম্প মালিকদের সংগঠন সূত্রের খবর, অতীতে বড় পাম্পগুলিকে মাসের শেষে চার থেকে পাঁচ দিনের ‘ক্রেডিট পিরিয়ড’ বা ধারে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া হত। এই ব্যবস্থায় পাম্পগুলি বিভিন্ন কলকারখানা, পরিবহণ সংস্থাকে ধারে তেল বিক্রি করত। যার বকেয়া টাকা এককালীন হাতে পেলে মাসের শুরুতেই তা সংশ্লিষ্ট তেল সংস্থাকে শোধ করতেন পেট্রল পাম্প মালিকেরা। কিন্তু, সম্প্রতি এই সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তেল সংস্থার কাছে এক দিন আগে অগ্রিম টাকা জমা রেখে তবেই জ্বালানি কিনতে হচ্ছে পাম্প মালিকদের।
তাঁদের অভিযোগ, এ হেন পরিস্থিতিতে ছোট শিল্প, পরিবহণ সংস্থা, বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থাকে ডিজ়েল বিক্রি করার ক্ষেত্রে অসুবিধা দেখা দিচ্ছে। তাঁরা চাহিদা মতো ধারে তেল বিক্রি করতে না পারায় ফিরছেন নগদ ব্যবস্থায়। এ ছাড়া, রাজ্য এবং জাতীয় সড়কের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে ড্রামে বা পাত্রে তেল বিক্রি করা নিয়ে বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। এককালীন ৪০০ লিটারের বেশি তেল কাউকে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পেট্রোলিয়াম ডিলার সংগঠনের সম্পাদক কল্যাণ মান্না। সব মিলিয়ে, তেল সংস্থাগুলির কড়াকড়ির কারণে মাটি কাটার যন্ত্র, জেনারেটর, মাছ ধরার ট্রলারে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখা নিয়ে সঙ্কট দেখা দিতে বসেছে।
প্রসঙ্গত, কলকাতার ক্ষেত্রে গাড়ির ট্যাঙ্ক ব্যতীত পাম্প থেকে খোলা পাত্রে পেট্রল এবং ডিজ়েল বিক্রি করার ক্ষেত্রে আগে থেকেই বিধিনিষেধ রয়েছে। সম্প্রতি এ নিয়ে কড়াকড়ি অনেক বেড়েছে। সূত্রের খবর, বাণিজ্যিক এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে চাহিদা অনুযায়ী তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখার জন্যই কালোবাজারি ঠেকাতে এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে।
‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর কার্যকরী কমিটির সদস্য সঞ্জয় সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘কলকাতায় এবং রাজ্যে পেট্রল-ডিজ়েলের জোগান নিয়ে এখনও সমস্যা নেই। তবে, জোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কিছু নিয়ন্ত্রণ জারি হয়েছে।’’
এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল-প্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি। ক্ষতি এড়াতেই তেলের ব্যবহারে সতর্কতার সঙ্গে রাশ টানা হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন তেল সংস্থার আধিকারিকদের একাংশ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)