Advertisement
E-Paper

আরজি করে নির্যাতিতা চিকিৎসক- ছাত্রীর পরিবারের একাধিক আবেদন খারিজ করে দিল আদালত! তদন্ত ধীর গতিতে চলছে বলে অনুমান বিচারকের

শুক্রবার আদালতের বিচারক নির্যাতিতার পরিবারের করা বেশ কিছু আবেদন খারিজ করে জানান, কাকে হেফাজতে রাখতে হবে তা তদন্তকারীকাই ঠিক করবেন। উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকে হেফাজতে রাখা সম্ভব নয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৪৬

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আরজি করে খুন এবং ধর্ষণের মামলায় তদন্তকারী কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রশ্ন তুলেছিলেন নির্যাতিতা চিকিৎসক-ছাত্রীর পরিবার। পাশাপাশি, এই মামলায় তাঁদের অনেক অভিযোগ ও আবেদন ছিল। শুক্রবার শিয়ালদহ আদালতের বিচারক পরিবারের বেশ কিছু আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। সিবিআইয়ের ‘ধীর গতির তদন্ত’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত।

আদালত সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার এই মামলায় আরও বেশ কয়েক জনকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন জানিয়েছিলেন নির্যাতিতার পরিবার। তাদের দাবি, সিবিআই আরজি কর-কাণ্ডের বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। সিবিআই এবং পুলিশমন্ত্রী ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের’ অংশ কি না, তা জানার জন্য তদন্তের দাবিও করা হয়েছে। এমনকি, নির্যাতিতার সঙ্গে শেষ বার যে জুনিয়র ডাক্তারদের দেখা গিয়েছিল, তাঁদের গ্রেফতার করারও দাবি জানায় পরিবার। শুক্রবার বিচারক ওই আবেদন খারিজ করে জানান, কাকে হেফাজতে রাখতে হবে তা তদন্তকারীকাই ঠিক করবেন। উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকে হেফাজতে রাখা সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের অগস্টে ওই ঘটনার পরে শ্রীরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক এবং আরজি কর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করলেও তাঁকে কার্যত ক্লিনচিট দেওয়া হয়েছে বলে নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ। এর আগে আরজি কর মামলায় অভিযুক্ত পুলিশকর্মী অনুপ দত্তকে গ্রেফতারের দাবিতে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা।

বৃহস্পতিবার তাঁদের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, অনুপের নির্দেশেই ওই খুন-ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায় আরজি কর হাসপাতালে গিয়েছিলেন। অনুপের পলিগ্রাফ টেস্টের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আনারও দাবি জানানো হয় তাঁদের তরফে। সেই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, সুদীপ্ত রায়ের বয়ান রেকর্ড করা হলেও আদালতে পেশ করা সিবিআই নথিতে কেন তার উল্লেখ নেই। পাশাপাশি, সুদীপ্ত এবং অনুপ-সহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের তদন্তের আওতায় আনার দাবিও তোলা হয়েছে। শুক্রবার নির্যাতিতার পরিবারের সেই সব আবেদন খারিজ করে দিল আদালত।

বিচারক আরও জানান, মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও চার্জশিট পেশ করা হয়েনি। তদন্ত ধীর গতিতে চলছে বলে অনুমান বিচারকের।

২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতে আরজি কর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে ধর্ষণ এবং খুন করা হয় এক চিকিৎসক-ছাত্রীকে। ওই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে। প্রথমে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই। কলকাতা পুলিশের হাতে ধৃত সিভিককে হেফাজতে নেয় তারা। পরবর্তী সময়ে শিয়ালদহ আদালতে চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। তাতে একমাত্র অভিযুক্ত হিসাবে সঞ্জয়ের নামই উল্লিখিত ছিল। তাঁকে ইতিমধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে নিম্ন আদালত।

জানুয়ারি মাসে আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং হত‍্যা মামলায় অষ্টম স্টেটাস রিপোর্ট (তদন্তে অগ্রগতির রিপোর্ট) জমা দেয় সিবিআই। তবে সেই স্টেটাস রিপোর্ট নিয়েও প্রশ্ন তোলে নির্যাতিতার পরিবার। তাদের আইনজীবী দাবি করেন, এই রিপোর্টে ‘ফলপ্রসূ’ কিছু নেই। কেন নির্যাতিতার মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে না, কাদের বাঁচানো হচ্ছে, এমন প্রশ্নও তোলা হয়। যদিও সিবিআইয়ের পাল্টা বক্তব্য ছিল, কাকে ডাকা হবে, কাকে নয়, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। বৃহস্পতিবার সিবিআই-এর তরফে নির্যাতিতার পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত অসহযোগিতার অভিযোগ তোলা হয়। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনজীবীর প্রশ্ন আদালতে মুখবন্ধ খামে যে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে কি না। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই পুলিশকর্মী অনুপ বা নির্যাতিতার সঙ্গে ঘটনার রাতে যে জুনিয়র ডাক্তারদের দেখা গিয়েছিল তাঁদের গ্রেফতার করা যায় কি না, তা-ও ‘জানতে চান’ সিবিআইয়ের আইনজীবী। তবে, শুক্রবার এই সব আবেদন আপাতত খরিজ করে দিলেন বিচারক।

RG Kar Rape and Murder Case RG Kar Case Verdict R G Kar Case Hearing Sealdah Court CBI Investigation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy