Advertisement
E-Paper

আরজি করে লিফ্‌টে মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ! টালা থানায় ডেকে জেরার মাঝেই পদক্ষেপ

আরজি কর হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, মৃত অরূপের বাবা তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই অভিযোগ টালা থানাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ২২:৫১
আরজি কর হাসপাতালের এই লিফ্‌টেই দুর্ঘটনা।

আরজি কর হাসপাতালের এই লিফ্‌টেই দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত।

আরজি কর হাসপাতালে লিফ্‌ট-কাণ্ডে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করল টালা থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন তিন জন লিফ্‌টম্যান এবং দু’জন নিরাপত্তারক্ষী। শুক্রবার ওই পাঁচ জনকে প্রথমে থানায় ডাকা হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তার পরেই গ্রেফতার করা হয়। শনিবার ধৃতদের শিয়ালদহ আদালতে হাজির করানো হবে। পরবর্তী তদন্তের ভার নিতে চলেছে লালবাজারের হোমিসাইড শাখা। শুক্রবার ভোরে আরজি কর হাসপাতালের লিফ্‌টে মৃত্যু হয়েছে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক যুবকের। অভিযোগ, সেই সময়ে লিফ্‌ট পরিচালনার জন্য লিফ্‌টম্যান ছিলেন না।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতেরা হলেন লিফ্‌টম্যান মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস, মানসকুমার গুহ, নিরাপত্তারক্ষী আশরাফুল রহমান এবং শুভদীপ দাস।

শিশুপুত্রের চিকিৎসার জন্য আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে গিয়েছিলেন অরূপ। শুক্রবার ভোরে লিফ‌্ট থেকে উদ্ধার করা হয় আহত অরূপকে। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ৪১ বছরের অরূপের শরীরে একাধিক আঘাত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর হাত, পা, পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছে। তাঁর হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃৎও ফেটে গিয়েছে।

আরজি কর হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, মৃত অরূপের বাবা তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই অভিযোগ টালা থানাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের হয়। কী জানানো হয়েছে অভিযোগে? সপ্তর্ষি বলেন, ‘‘পরিবারের বক্তব্য, লিফ‌্টে আটকে তিনি (অরূপ) আহত হন। লিফ‌্ট ঠিকঠাক চলছিল। একটি বোতাম চাপা হয়, তার পরেই লিফ্‌ট ওঠা-নামা করে। তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা।’’ হাসপাতালের সুপারের কথায়, ‘‘পরিবারের বক্তব্য অনুসারে, লিফ্‌ট একটি জায়গায় নামে। ভিতরে আটকে থাকা তিন জন বেরোতে যান। কিন্তু লিফ্‌টের বাইরে সেখানে কোলাপসিপল গেট ছিল। সেই সময় তিনি বেরোতে যান, তখন লিফ্‌ট উঠতে শুরু করে। সেই সময় লিফট এবং দেওয়ালের মাঝে আটকে পড়েন (অরূপ)।’’

হাসপাতালের সুপারের বক্তব্য, মৃত অরূপের বাবা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছেন তিনি। লিফ্‌টম্যানের কথা জানিয়েছেন। এর পরেই সুপার বলেন, ‘‘কোনও মৃত্যু কাঙ্ক্ষিত নয়। লিফ‌্টম্যান থাকলে হয়তো এই ঘটনা হত না। প্রশাসনিক ব্যর্থতা মানছি।’’ এর পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। সপ্তর্ষি জানান, এর পরে হাসপাতালের লিফ্‌টের ভিতরে কর্মী না-থাকলে সেখানে কাউকে উঠতে দেওয়া হবে না। গোটা হাসপাতালে ৩২টি লিফ্‌ট রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘লিফ্‌টের ভিতরে এ বার কর্মী বসে থাকবেন টুল দিয়ে। লিফ্‌টের বাইরে নয়। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তাই এই ব্যবস্থা।’’ এই ঘটনায় হাসপাতালের থেকে রিপোর্ট চেয়েছে স্বাস্থ্য ভবন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy