ভোটের ফল বেরোনোর পরে কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় বিচ্ছিন্ন ভাবে কয়েকটি গোলমালের খবর এসেছে। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, শুক্রবার লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরোতেই বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের কর্মীদের উপরে এবং দলীয় অফিসে হামলা চালিয়েছে শাসক দলের কর্মী-সমর্থকেরা। সবক’টি ক্ষেত্রেই অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
বিরোধীদের অভিযোগ, বিজয়গড় কলেজে সিপিএমের এজেন্ট শান্তনু ঘোষদস্তিদারকে মারধর করা হয়েছে। তাঁকে একটি নার্সিং হোমে ভর্তি করানো হয়েছে। আরও অভিযোগ, বাগমারি লেন, মানিকতলা এলাকায় সিপিএমের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলার ভয়ে কসবা, গরফা, যাদবপুর, উল্টোডাঙা, শ্যামপুকুরের মতো বহু জায়গায় এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন বিরোধী দলের সমর্থকেরা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, তাদের দলের কর্মীরা এই সব ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন।
এ দিনই দুপুরে বেলেঘাটার কে জি বসু সরণিতে সিপিএমের আঞ্চলিক কার্যালয়ে ইট ছুড়ে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সিপিএমের তরফে অবশ্য বেলেঘাটা থানায় পরে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়।
কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে হাওড়াতেও। অভিযোগ, নির্বাচনের গণনা চলাকালীন সালকিয়ার বাবুডাঙার কাছে সিপিএম এর একটি কার্যালয়ে তৃণমূলের কর্মীরা ভাঙচুর চালায়। কার্যালয়ে ঢুকে ভিতরের আসবাবপত্র বাইরে বার করে সেগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তার পরে পার্টি অফিসের দরজার সামনে ইট গেঁথে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের হাওড়া জেলা সভাপতি (শহর) অরূপ রায় বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলের কর্মীরা জড়িত নয়। তবে সবিস্তার খোঁজ নিয়ে দেখছি।” অন্য দিকে, হাওড়ার বাঁকড়ায় তৃণমূলের কয়েক জন কর্মী বোমাবাজি করে বলে অভিযোগ। অভিযোগ, এলাকার দশটি দোকানেও ভাঙচুর চালায় তারা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। তৃণমূল ওই দু’টি অভিযোগই অস্বীকার করেছে।
ব্যারাকপুরের মণিরামপুর গভর্নমেন্ট কলোনিতে সিপিএমের এক নেতা এবং দুই সদস্যের বাড়িতে বিকেলের দিকে বেশ কিছু যুবক ঢুকে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সিপিএমের ওই নেতার হাতে আঘাত লেগেছে। দু’টি দোকান-সহ বেশ কিছু বাড়িতে ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।