E-Paper

উচ্ছেদ-‘অবসাদে’ ফের মৃত্যুর নালিশ, প্রতিবাদে বামেরা

বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় বলেছেন, “হকারদের বড় অংশ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। হকারদের জীবন-জীবিকা যেমন রয়েছে, তেমনই পথচারীদেরও রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করার অধিকার আছে।”

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০৭:০০

—প্রতীকী চিত্র।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর— আবার হকার মৃত্যুর ঘটনা। পরিবারের দাবি, উচ্ছেদের ফলে ‘মানসিক অবসাদ থেকে রাসায়নিক পান’ করে মারা গিয়েছেন শঙ্কর প্রধান (৪০) নামে ভগবানপুরের ওই হকার। এমন পরিস্থিতিতে পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না, এই দাবিতে আন্দোলনের পরিসর বড় করার চেষ্টা করছে সিপিএম-সহ বাম শ্রমিক সংগঠনগুলি। নানা জায়গায় বুধবার বাম শ্রমিক সংগঠনগুলি বিক্ষোভ দেখিয়েছে। বিজেপি সূত্রে অবশ্য হকার-স্বার্থ রক্ষিত হবে বলেই দাবি।

হাওড়া স্টেশনের ফুটপাতে ভগবানপুরের নলদা গ্রামের বাসিন্দা শঙ্করের হোটেল ছিল। তাঁর উপার্জনেই চলত পাঁচ সদস্যের পরিবার। বুলডোজ়ার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হোটেল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বাড়ি ফিরে মা পারুলের কাছে হোটেল ভেঙে দেওয়া নিয়ে আফসোস করছিলেন শঙ্কর। কী ভাবে সংসার চালাবেন, দোকানের জন্য নেওয়া ঋণ কী ভাবে শোধ করবেন, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন শঙ্কর। পরিজন জানিয়েছেন, প্রচুর মদ্যপান করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন শঙ্কর। তমলুক মেডিক্যালে এ দিন ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের ভাই শিবু প্রধান বলেছেন, “হাসপাতালেও দোকান ভাঙার কথা বলছিল দাদা। ওই অবসাদেই মৃত্যু হয়েছে।”

উচ্ছেদের বিরুদ্ধে নিউ কোচবিহার স্টেশনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সিটু অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়ন। সংগঠনের বক্তব্য, গত ২১ তারিখ রেল বুলডোজ়ার চালিয়ে অন্তত ৩০০ দোকান ভেঙে দেওয়ার ফলে তিন হাজার ব্যবসায়ী, হকার কাজ হারিয়েছেন। একই কারণে ইছাপুর স্টেশনেও হয়েছে মিছিল। ছিলেন সিটু নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়।

বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় অবশ্য বলেছেন, “হকারদের বড় অংশ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। হকারদের জীবন-জীবিকা যেমন রয়েছে, তেমনই পথচারীদেরও রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করার অধিকার আছে।”

সংগ্রামী হকার ঐক্য মঞ্চের ডাকে উত্তর ২৪ পরগনার চাঁদপাড়ায় মিছিল হয়েছে। ওই জেলারই গরিফা স্টেশন লাগোয়া এলাকায় তাদের জমিতে থাকা কয়েক হাজার মানুষকে ১৩ জুনের মধ্যে উঠে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রেল।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Left CPIM

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy