৩০মে থেকে উত্তর দিনাজপুর জেলার সব ব্লকের নানা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র মিলিয়ে ১৪টি জায়গা থেকে ১৪ বছরের কিশোরীদের ‘হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস’ (এইচপিভি) প্রতিষেধক দেওয়ার কাজ শুরু করবে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। ভবিষ্যতে মহিলাদের জরায়ুর ক্যানসার রুখতে এই প্রথম জেলায় সরকারি উদ্যোগে ওই কর্মসূচি শুরুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, আগামী তিন মাস ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন জেলার নয়টি ব্লকের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বিনা খরচে প্রতিষেধক মিলবে। তিন মাসে জেলায় জনসংখ্যার ১ শতাংশ ১৪ বছরের ৩৫ হাজার কিশোরীকে ওই প্রতিষেধক দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকান্ত বিশ্বাস জানান, ৩০ মে উত্তর দিনাজপুরের পাশাপাশি রাজ্য জুড়ে ১৪ বছর বয়েসি কিশোরীদের ওই প্রতিষেধক দেওয়ার কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, “আজকের কিশোরীরা আগামী দিনের সমাজের ভবিষ্যৎ। তাই, ভবিষ্যতে মহিলাদের জরায়ু-ক্যানসার রুখতে ওই প্রতিষেধক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্য সরকার ও জেলা স্তরে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই কর্মসূচি চলবে।”
রায়গঞ্জ মেডিক্যালের সুপার প্রিয়ঙ্কর রায় জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশে মেডিক্যালে ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের ‘এইচপিভি’ প্রতিষেধক দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, ১৪ বছর বয়স থেকে ১৫ বছর হওয়ার এক দিন আগে পর্যন্ত বয়েসি কিশোরীদের বাঁ হাতের বাহুতে এইচপিভি প্রতিষেধক দেওয়া হবে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, “তিন মাসের ওই কর্মসূচির পর ধীরে-ধীরে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থায় ১৪ বছর বয়েসি কিশোরীদের নিয়মিত ওই প্রতিষেধক দেওয়া হবে। এক জন কিশোরী এক বারই ওই প্রতিষেধক পাবে। জেলার ন’টি ব্লক ও চারটি পুর এলাকায় ওই প্রতিষেধকের বিষয়ে অঙ্গনওয়াড়ি ও আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করেছেন। জেলা ও ব্লক স্বাস্থ্য দফতর এবং প্রশাসনের তরফেও প্রচার চলছে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)