E-Paper

নেপালে গণবিক্ষোভে লুটের অস্ত্র রাজ্যে, ঘুম কাড়ছে গোয়েন্দাদের

নেপালে গণবিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক থানায় লুট করে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সে সব বিহারের কিষাণগঞ্জের অস্ত্রের চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি হয়। যার বড় অংশ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীর ডেরায় পৌঁছে গিয়েছে বলে খবর।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ০৮:১৭

—প্রতীকী চিত্র।

গত সেপ্টেম্বরে নেপালে গণবিক্ষোভের জেরে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্রাগারের স্বয়ংক্রিয় রিভলভার ও রাইফেল এ রাজ্যে জড়ো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে রাজ্যের গোয়েন্দা কর্তাদের দাবি। যার মধ্যে রয়েছে নাইন এমএম, সেভেন এমএম, কার্বাইন, একে ৪৭, একে ৫৬-এর মতো অস্ত্র। বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ওই সব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ তল্লাশির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

নেপালে গণবিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক থানায় লুট করে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সে সব বিহারের কিষাণগঞ্জের অস্ত্রের চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি হয়। যার বড় অংশ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীর ডেরায় পৌঁছে গিয়েছে বলে খবর। সূত্রের দাবি, কলকাতা ও রাজ্য স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের তল্লাশি অভিযানে তার কিছু উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, বীরভূমে বেশি ওই অস্ত্র পৌঁছেছে।

সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের গোয়েন্দাদের হাতে এক মহিলা এবং এক প্রতিবন্ধী যুবক বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের সময়ে কয়েকটি কার্বাইন এবং নাইন এমএম পিস্তল-সহ ধরা পড়ে। দেখা যায়, নেপালের সরকারি অস্ত্রাগারে তৈরি সে সব।

গোয়েন্দা কর্তাদের কথায়, গত পাঁচ বছরে মুঙ্গের এবং ভাগলপুরে তৈরি সেভেন এমএম ও নাইন এমএম পিস্তল, ওয়ান শটার এবং কার্বাইন বিপুল পরিমাণে দুষ্কৃতীদের কাছে পৌঁছেছে। গত পাঁচ বছরে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় তল্লাশি চালিয়ে মুঙ্গের ও ভাগলপুরে তৈরি আড়াই থেকে তিন হাজার ছোট দেশীয় স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আড়াইশো বেআইনি অস্ত্র পাচারকারীকে ধরা হয়েছে। যা হিমশৈলের চুড়া মাত্র। তবে অধিকাংশ দুষ্কৃতী রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছাতার তলায় থাকায় তল্লাশিতে বাধা হচ্ছে।

গোয়েন্দা কর্তাদের কথায়, রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতারাও আরেক ধরনের অস্ত্র রাখার ফন্দি আঁটছেন। একটি বৈধ লাইসেন্সের আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে রাখেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের ডেরা এবং ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীদের কাছে মুঙ্গের ও ভাগলপুরের অস্ত্র মজুত থাকে। এলাকায় সংঘর্ষ হলে বৈধ লাইসেন্সের আগ্নেয়াস্ত্র পুলিশকে দেখানো হয়। তা ব্যবহার করা হয়নি বলে পুলিশি তদন্তে তুলে ধরা হয়। আদতে ওই সব বেআইনি অস্ত্র সংঘর্ষে ব্যবহার করা হয়।

প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতির মামলায় ইডির তদন্তকারী অফিসার এবং কেন্দ্রীয় জওয়ানদের হামলার ঘটনায় ধৃত সন্দেশখালির শাহজাহান শেখের ঘনিষ্ঠের বাড়ি থেকে ২১টি নাইন এমএম পিস্তল উদ্ধার করে সিবিআই। তার একটি পিস্তলের বৈধ লাইসেন্স ছিল। তা শাহজাহানের ভাই শেখ আলমগীরের নামে। শাহজানের পকেটে ওই পিস্তলটিই থাকত। শাহজাহানের সঙ্গীদের কাছে মুঙ্গের ও ভাগলপুরের অবৈধ পিস্তল থাকত।

রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশের কর্তাদের কথায়, গত পাঁচ বছরে ভাগলপুর ও মুঙ্গেরে তৈরি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পাচার রুখতে নাকাল দশা তাঁদের। এখন নেপালের সরকারি অস্ত্রাগার লুটের আগ্নেয়াস্ত্রও বড় চিন্তা।

রাজ্য গোয়েন্দা দফতরের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘নেপালের ওই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্যে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের এসটিএফ, সিআইডি ও জেলা পুলিশের পারদর্শী অফিসারদের নিয়ে একটি দল গঠন হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার এবং দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের জন্যে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।’’

তদন্তকারীদের কথায়, ভাগলপুর ও মুঙ্গেরের অস্ত্র কারবারিরা রাজ্যের বাসিন্দা মহিলা ও প্রতিবন্ধীদের মাধ্যমে পাচার চক্র গড়ে তুলেছে। যারা এখনও রেলপথে অস্ত্র পাচার করে। গয়া প্যাসেঞ্জার, জামালপুর প্যাসেঞ্জারের মতো ট্রেনে এক-এক জন ৮-১০টি করে আগ্নেয়াস্ত্র পাচার করে। ওই ট্রেনগুলিতে নজর রাখা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, একটি কার্বাইন জায়গা মতো পাচার করলে কুড়ি হাজার টাকা জোটে।নাইন এমএম এবং সেভেন এমএম পিস্তল প্রতি পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা মেলে। তদন্তের সূত্রে মুঙ্গের ও ভাগলপুরের একাধিক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয়েছে। পাচারকারীদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের বিষয়টি তাতে স্পষ্ট হয়েছে। এ রাজ্যে বেআইনি অস্ত্র পাচারে প্রায় হাজার দেড়েক এজেন্টের তথ্য মিলেছে। তাঁদের ধরার জন্য প্রস্তুতি চলছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Fire Arms Arms

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy