E-Paper

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভার পরিকাঠামোর কাজে জেলা

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, জেলা প্রশাসনগুলিই এখন থেকে সভাস্থল তৈরির প্রস্তুতি নেবে। প্যান্ডেল তৈরি থেকে খাওয়ার ব্যবস্থা—সবই থাকবে জেলা প্রশাসনগুলির হাতেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৪ ০৭:৪২
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

জেলা সফরে প্রশাসনিক সভার পরিকাঠামোয় হওয়া খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গত বর্ধমান সফর থেকেই সেই খরচ কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। সংশ্লিষ্ট মহলের খবর, স্থির হয়েছে, এ বার থেকে সেই সব সভার পরিকাঠামো তৈরির কাজ জেলা প্রশাসনই করাবে। সেখানে কোনও নির্দিষ্ট বেসরকারি ডেকরেটর সংস্থার হাত থাকবে না। এতে খরচের বহর এক ধাক্কায় অনেকটা কমবে বলে দাবি পর্যবেক্ষকদের।

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, জেলা প্রশাসনগুলিই এখন থেকে সভাস্থল তৈরির প্রস্তুতি নেবে। প্যান্ডেল তৈরি থেকে খাওয়ার ব্যবস্থা—সবই থাকবে জেলা প্রশাসনগুলির হাতেই। এতদিন সেই কাজ করত নির্দিষ্ট একটি সংস্থা। স্থির হয়েছে, জেলা পূর্ত দফতরের অধীনে স্থানীয় ডেকরেটরদের সহযোগিতায় সভাস্থল তৈরির কাজ হবে। খাওয়ার ব্যবস্থা হবে স্থানীয় স্তরেই। জেলা-কর্তাদের একাংশ মনে করছেন, এতে একেকটি
সভায় খরচের বহর কমবে অন্তত ২৫-৩০%।

এক আধিকারিকের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। নিরাপত্তার দেখভাল যাঁরা করেন, সভাস্থলের পরিকাঠামো তৈরিতে তাঁদের মতামত জরুরি। ফলে তাঁরা যেমন ভাবে সভাস্থল তৈরির পরামর্শ
দেবেন, সে ভাবেই তা করতে হবে। তবে অতিরিক্ত বাহুল্যে শীর্ষমহলের আপত্তি রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, জেলা-কর্তাদের সঙ্গে গত প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই খরচের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সূত্রের দাবি, সেই বৈঠকে তাঁর বক্তব্য ছিল, সরকারি কাজে ন্যূনতম পরিকাঠামো হলেই চলে। তাতে বাহুল্যের প্রয়োজন নেই। আবার খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনে ‘বাড়াবাড়ি’ যে তাঁর পছন্দ হচ্ছে না, সে ব্যাপারেও স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল মমতার। ফলে তার পর থেকেই জেলা প্রশাসনগুলি এ ব্যাপারে বাড়তি সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের অনেকে মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রায় নিয়মিত জেলায় জেলায় গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করে থাকেন। সঙ্গে সরকারি পরিষেবা বিতরণের সভাও হয়। ফলে এই সব সভাস্থল তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পূর্ত দফতরের হাতে থাকলে স্থানীয় শ্রমিকদের কাজে লাগিয়ে পরিকাঠামো তৈরি করে ফেলা সম্ভব। তাতে খরচের বহর বাড়বে না।

প্রসঙ্গত, অতীতে একাধিক বার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভাগুলিতে কোটি কোটি টাকা খরচের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে কোথা থেকে সেই অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে, তা নিয়েও প্রায় নিয়মিত প্রশ্ন ছিল তাঁদের। প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের ধারণা, খরচ কমানোর স্বাভাবিক প্রবণতার পাশাপাশি হয়তো সেই অভিযোগগুলিও প্রশাসনিক শীর্ষমহলকে ধাক্কা দিয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy