Advertisement
E-Paper

আর নয় ডিজে, শুরু শব্দ-যুদ্ধ

আবার কখনও হাজির হচ্ছেন স্কুল বা কোনও ক্লাবে। ওই যুবকেরা অনুরোধ করছেন—দয়া করে কোনও উৎসব-অনুষ্ঠানে ডিজে বক্স বাজাবেন না।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০১৮ ০১:৫৩
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

সকাল হলেই শহরের পথে বেরিয়ে পড়ছেন কয়েকজন যুবক। কখনও কড়া নাড়ছেন গৃহস্থের বাড়ি। আবার কখনও হাজির হচ্ছেন স্কুল বা কোনও ক্লাবে। ওই যুবকেরা অনুরোধ করছেন—দয়া করে কোনও উৎসব-অনুষ্ঠানে ডিজে বক্স বাজাবেন না।

আবেদনে কি কাজ হবে! ঘাটাল শহরের এক প্রবীণ চিকিৎসক জিতেন্দ্রনাথ রায় বললেন, “আসলে আমরা নিজেদের ভাল নিজেরা বুঝতে না পারলে ডিজে বক্স বন্ধ হবে না।”

নিজের ভালটা বুঝতে পেরেছে চন্দ্রকোনার শালঝাঁটি গ্রাম। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এক অনুষ্ঠানে চন্দ্রকোনা-১ বিডিও অভিষেক মিশ্র এলাকায় গিয়ে ডিজে বন্ধে গ্রামের মানুষকে উদ্যোগী হতে আর্জি জানান। তারপরই শুরু হয় প্রচার। সচেতন করতে গ্রামের মোড়ে মোড়ে দেওয়া হয় ফ্লেক্স-পোস্টার। শালঝাঁটিতে থাকে ১০০টি পরিবার। জনসংখ্যা ৬০০। এখন গ্রামে অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু বাজে না ডিজে বক্স। গত মঙ্গলবারই শালঝাটিতে শীতলা পুজো ছিল। সেই পুজো উপলক্ষে বেজেছে চোঙ, ছোট বক্স। তার শব্দও ছিল নিয়ন্ত্রিত। গ্রামের মানুষ বললেন, “ছোট বক্সেই পুজোর আনন্দ ভাল ভাবেই উপভোগ করলাম।” স্থানীয় মানিককুণ্ডু গ্রাম পঞ্চায়েতের সহায়ক দিব্যেন্দু মণ্ডল বলেন, “শালঝাঁটির মত পঞ্চায়েতের জামগেড়িয়া, রঘুনাথপুর এই দুটি গ্রামেও বিডিও সাহেবের উদ্যোগে ডি জে বক্স বন্ধ হচ্ছে। এখন প্রস্তুতি চলছে।” শালঝাঁটি দিয়েছে অনুপ্রেরণা। ঘাটালের কয়েকজন উৎসাহী যুবক ডিজে বন্ধে রাস্তায় নেমেছেন। তাঁরা পাশে পেয়েছেন প্রবীণ মানুষ, চিকিৎসক থেকে শিক্ষক, ব্যবসায়ী-সংশ্লিষ্ট সমস্ত স্তরের মানুষকে। ডিজে বন্ধের আন্দোলনে যুক্ত যুবকেরা মহকুমা শাসক, পুলিশ সুপার, পুরসভায় লিখিত আবেদন জানিয়েছে। শহরে পোস্টার সেঁটে আন্দোলনে সামিল হওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন তাঁরা। অর্পূব দাস, লক্ষ্মীকান্ত দাস, সঞ্জীব পালেরা বললেন, “এ বার পথসভা করব। প্রয়োজনে জনস্বার্থ মামলাও করব। ডিজে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।” ঘাটাল শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে গোটা কুড়ি ডেকরেটর দোকান আছে। সকলেরই কমবেশি ডিজে বক্সও আছে। চোঙ, ছোট বক্সের পাশাপাশি চাহিদা থাকায় এখন ব্যবসায়ীরা ডিজে বক্সের জন্য বেশি করে বিনিয়োগ করছেন। শহরের এক ডেকরেটর ব্যবসায়ীর কথায়, “মরসুমে একসঙ্গে একশো-দেড়শো করে ডিজে বক্সের অর্ডার থাকে। ভাল টাকা আয় হয়। উদ্যোক্তারা আগাম টাকা দিয়ে যান। তাই ব্যবসায় উৎসাহ বাড়ছে।” পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছে প্রশাসন। ঘাটালের মহকুমা শাসক পিনাকীরঞ্জন প্রধান বললেন, “ডিজে বন্ধ প্রশাসনিক স্তরে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” আর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খড়্গপুর) ওয়াই রঘুবংশীর কথায়, “ডিজে নিয়ে পুলিশ সতর্ক।”

Sound pollution শব্দ দূষণ
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy