কাঁথিতে দেবী দর্শনে বৃদ্ধাশ্রম আবাসিকরা
নিজস্ব সংবাদদাতা • কাঁথি
মণ্ডপে আশ্রমিকেরা। মঙ্গলবার।—নিজস্ব চিত্র।
বাড়ি থেকে দূরে বৃদ্ধাশ্রমেই কাটে দিন। পুজোর ক’দিন দুঃখ-যন্ত্রণা ভুলে প্রবীণ এই মানুষগুলোও যাতে আনন্দের স্বাদ পান, সেই ব্যবস্থাই করা হল কাঁথির ফরিদপুরের বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের জন্য। মহাষষ্ঠীর বিকেলে একের পর এক দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ঘুরে বেরালেন তাঁরা। এই উদ্যোগ কাঁথি থানা, মহিলা থানা ও ‘ইনার হুইল’ ক্লাবের মহিলা সদস্যদের। মোট ২৫ জন বৃদ্ধাকে বাসে করে প্রতিমা দর্শন করানো হয়। এমন সুযোগ পেয়ে খুশি বৃদ্ধারা। জানালেন, সেই কবে পরিবারের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন। সকলে ঠাকুর দেখার সুযোগ পেয়ে সত্যি দারুণ লাগছে। কাঁথির আইসি সুবীর রায় জানান, জেলা পুলিশ সুপার সুকেশ জৈনের নির্দেশে ‘মায়েদের পুজো পরিক্রমা’-র আয়োজন করা হয়েছিল। বৃদ্ধাশ্রমের মহিলা আবাসিকদের ঠাকুর দেখাতে পেরে খুশি পুলিশ কর্মী ও ইনার হুইল ক্লাবের সদস্যারাও।
পুজোয় সেরা অশোকনগর
নিজস্ব সংবাদদাতা • মেদিনীপুর
পার্লে আননন্দবাজার শারদ অর্ঘ্য ২০১৪ ছিনিয়ে নিল মেদিনীপুর শহরের অশোকনগর সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। মেদিনীপুর ও খড়্গপুর শহরের সেরা পুজোর খোঁজে ষষ্ঠীর দিন বেরিয়েছিল আনন্দবাজার। বিচারক ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ওবায়দুর খান ও খড়্গপুর আইআইটি-র কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক শুভব্রত রায়। দুই শহরের বেশিরভাগ পুজো কমিটিই আবেদন জানিয়েছিলেন। সব মণ্ডপ ঘুরে অবশেষে প্রথম স্থান পেল অশোকনগর সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। এ বার এখানে মণ্ডপ হয়েছে উই ঢিবির আদলে। যার চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে উই, রয়েছে ব্যাঙের ছাতা, সাপ, পাশে পড়ে রয়েছে গাছের ডাল। মণ্ডপ দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। বিচারকদেরও তা নজর এড়ায়নি।
লিটল ম্যাগ স্টল
নিজস্ব সংবাদদাতা • মেদিনীপুর
মেদিনীপুর লিটল ম্যাগাজনি অ্যাকাডেমির উদ্যোগে একটি স্টলের উদ্বোধন হল মঙ্গলবার। এদিন সন্ধ্যায় মেদিনীপুর শহরের পোস্ট অফিস রোডে স্টলটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। শারদ উৎসব উপলক্ষেই এই স্টল। দুই মেদিনীপুর থেকে তিনশোরও বেশি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ হয়। এরমধ্যে একশোটিরও বেশি ম্যাগাজিন শারদীয় সংখ্যা প্রকাশ করে। এক- একটি পত্রিকার বৈশিষ্ট্য এক- এক রকম। স্টলে হরেক রকম সাহিত্য পত্রিকাই রয়েছে।
থিমের মণ্ডপ দেখতে জনজোয়ারে ভাসল কাঁথি
কোথাও মণ্ডপে উঠে এসেছে জঙ্গলমহলের আবহ। আবার কোথাও আলো-শব্দ প্রযুক্তির মাধ্যমে মণ্ডপে ফুটে উঠেছে রামায়ণের অকাল বোধন। থিমের লড়াইয়ে একে অপরকে পাল্লা দিতে তৈরি পুজো মণ্ডপগুলি। আর চতুর্থীর রাত থেকেই কাঁথির রাস্তায় জনপ্লাবন। কাঁথির অন্যতম বড় বাজেটের পুজো হিসেবে পরিচিত নান্দনিক ক্লাব। এ বার তাদের থিম জঙ্গলমহল। কৃত্রিম গাছ থেকে আদিবাসী মানুষের ঘরবাড়ি, তাঁদের জীবনযাত্রা সবই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে। ক্লাবের সম্পাদক তথা কাঁথির পুরপ্রধান সৌমেন্দু অধিকারী জানালেন, এর মাধ্যমে পরিবর্তনের পর আদিবাসী মানুষ অধ্যুষিত জঙ্গলমহলের উন্নয়নকেই তুলে ধরার একটা প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। ‘ইউথ গিল্ড’ এ বারের মণ্ডপ সজ্জার মাধ্যমে রামায়ণের কাহিনী তুলে ধরেছে। ক্লাবের সম্পাদক চন্দন জানা জানালেন, অযোধ্যার রাজপুরীর আদলে তৈরি মণ্ডপের সামনে দু’টি ঘোড়া থাকছে। আর মন্ডপের ভিতরে আলো-শ্বদ প্রযুক্তির মাধ্যমে রামায়ণের কাহিনী তুলে ধরা হবে। মাতৃ আরাধনায় কাঁথির সারস্বতী ক্লাবের এ বারের থিম গ্রামীণ পল্লীসমাজ। খড়, বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে গ্রামীণ আটচালা। আটচালার মধ্যে দেবীর টেরাকোটা মূর্তি। ক্লাবের সম্পাদক গৌতম রায়ের আশা, খড়, বাঁশ, বাবুই দড়ি দিয়ে গ্রামীণ শিল্পীদের তৈরি এই মণ্ডপ দশর্কদের মন টানবে। প্যারাডাইস ক্লাবের পাউরুটি, বিস্কুট, চকোলেট, কেকের প্যাকেট দিয়ে তৈরি অভিনব মণ্ডপ ও প্রতিমা দর্শকদের নজর কাড়ছে। পাশাপাশি, ভিড় টানতে প্রস্তুত চৌরঙ্গি, প্রিন্স স্টার, চৌরঙ্গী রিক্রিয়েশন ক্লাবের পুজোও।
লড়াইয়ের ডাক দীপকের
ভয়-ভীতি কাটিয়ে মানুষকে ফের পথে নামার আহ্বান জানালেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক দীপক সরকার। মঙ্গলবার মেদিনীপুর শহরে দু’টি বুক স্টলের উদ্বোধন করেন তিনি। পুজো উপলক্ষে দলের উদ্যোগেই এই স্টল হয়েছে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নানা নীতির সমালোচনা করেন দীপকবাবু। সারদা-কাণ্ড নিয়েও সরব হন। তাঁর কথায়, “রাজ্যে যে ভয়ঙ্কর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নীতিগত প্রশ্নে দ্বিচারিত দেখা যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আরও জোরালো প্রতিবাদ হওয়া দরকার। ভয়-ভীতি কাটিয়ে এখনই ব্যাপক মানুষের পথে নামা প্রয়োজন। ব্যাপক মানুষের সমাবেশই পারবে ওদের (তৃণমূল) জনস্বার্থ বিরোধী কাজকে প্রতিহত করতে।
বস্ত্র বিতরণ
প্রায় ২০০ জন গরিব মানুষকে নতুন বস্ত্র দান করলেন কেরানিতলার বাসিন্দা রাজেশ চক্রবর্তী। ষষ্ঠীর দিন নতুন পোশাক আপ্লুত সকলে। পেশায় ব্যবসায়ী রাজেশবাবু বলেন, “পুজোতে সকলেই নতুন পোশাক পরেন। বহু গরিব মানুষ আর্থিক অনটনের কারনে নতুন পোশাক কিনতে পারেন না। তাঁদের কয়েকজনকেও যদি নতুন পোশাক দিয়ে একটু আনন্দ দেওয়া যায় সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।” অনুষ্ঠানে রাজেশবাবুর পাশে ছিলেন স্ত্রী কবিতা চক্রবর্তীও। প্রতি বছরই পুজোয় কিছু মানুষকে নতুন বস্ত্র দানের অঙ্গীকারও করেন।