আলু দাম মেলেনি। তার প্রভাবই কী পড়ল ইভিএমে!
ছাব্বিশের ভোটে আলু চাষ প্রধান এলাকায় কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে তৃণমূল। গড়বেতা, শালবনি, চন্দ্রকোনায় বিজেপি বড় ব্যবধানে হারিয়েছে তৃণমূলকে। ফল পরবর্তী সমীক্ষায় অনেকেই মনে করছেন, এ বার আলুর দাম না পাওয়া জনিত হতাশা থেকেই চাষিদের ভোট পায়নি তৃণমূল।
গড়বেতা, শালবনি, চন্দ্রকোনার প্রধান অর্থকরী ফসল আলু। এই তিনটি কেন্দ্রে থাকা মোট কৃষক পরিবারের প্রায় ৮০ শতাংশই আলু চাষের সঙ্গে যুক্ত। আলু থেকে আসা আয়ের উপরেই তাঁদের রুজি-রুটি নির্ভর। এ বার আলুর দাম না থাকায় তাঁরা প্রচুর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। সেই ক্ষতি সইতে না পেরে চন্দ্রকোনা এলাকায় দুই চাষির মৃত্যুর অভিযোগ পর্যন্ত উঠেছে। ভোটের কয়েকমাস আগে রাজ্য সরকার চাষিদের কাছ থেকে ৯৫০ টাকা কুইন্টাল দরে আলু কেনার কথা ঘোষণা করলেও, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। সরকার সরাসরি না কিনে হিমঘরের মাধ্যমে আলু কেনার কথা বলায় জটিলতা বেড়েছিল। সেই সবের প্রভাবই ওই কেন্দ্রগুলিতে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
গড়বেতা কেন্দ্রে জয়ী বিজেপি প্রার্থী প্রদীপ লোধা হিমঘর ব্যবসার সাথে যুক্ত। তিনি হিমঘর সংগঠনের জেলা সভাপতিও। প্রদীপ বলছেন, ‘‘আলু চাষিদের সিংহভাগ ভোট আমরা পেয়েছি। তাঁরাও বুঝেছিলেন তৃণমূল সরকারের হঠকারি ও অনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য তাঁদের এই সর্বস্বান্ত অবস্থা। আগের দু'বছর অন্য রাজ্যে আলু পাঠাতে প্রশাসনিক বাধাও ছিল। আলু ও হিমঘর ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দাবিও মানেনি সরকার। সব মিলিয়ে আলু চাষিরা এ বার রাজ্য সরকারের প্রতি বিরূপ ছিলেন। তা ইভিএমে পড়েছে।’’ শালবনির জয়ী বিজেপি প্রার্থী বিমান মাহাতোও বলছেন, ‘‘ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিরা বিজেপির উপরেই ভরসা করেছেন। তৃণমূলের জন্যই তাঁদের এই বিপর্যয়। তা তাঁরা উপলব্ধি করেছেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)