E-Paper

লালকুঠির কী হবে, জল্পনা দার্জিলিঙে

এ বারের ভোটে দার্জিলিং ও কালিম্পং মিলিয়ে পাহাড়ের তিনটি আসনেই বিজেপির প্রার্থীরা জিতেছেন।

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ০৮:৩২
জিটিএ-র সদর দফতর দার্জিলিঙের ‘লালকুঠি।

জিটিএ-র সদর দফতর দার্জিলিঙের ‘লালকুঠি। —ছবি : সংগৃহীত

গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-র সদর দফতর দার্জিলিঙের ‘লালকুঠি’র ভবিতব্য কী হবে, তা নিয়ে পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যে পরিবর্তনের পরে পাহাড়ের প্রশাসনিক ক্ষমতা নিয়ে বিজেপির অন্দরে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। অনীত থাপার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত জিটিএ বোর্ড আগামী দিনে পাহাড়ে মেয়াদ পূরণ করবে না কি নতুন কোনও প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পাহাড়ের জন্য় গেরুয়া শিবির আনবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আগামী দিনে পাহাড় নিয়ে বিজেপির তরফে কিছু ঘোষণা করা হবে, তা এক প্রকার চূড়ান্ত বলে দলীয় সূত্রের খবর।

মঙ্গলবারই দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিক পুরসভার সমস্ত নথিপত্র সংরক্ষিত করে রাখার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘২০২২ সাল থেকে তৃণমূল সরকার মনোনীত প্রশাসক দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। পুরসভা থেকে জিটিএ— সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ করে পদক্ষেপ করবে নতুন রাজ্য সরকার।’’

এ বারের ভোটে দার্জিলিং ও কালিম্পং মিলিয়ে পাহাড়ের তিনটি আসনেই বিজেপির প্রার্থীরা জিতেছেন। বিশেষ করে, দার্জিলিং আসনে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুংয়ের ‘ডান হাত’ বলে পরিচিত নমেন রাই বিজেপির টিকিটে জিতেছেন। তাতে আগামী দিনে গুরুংয়ের তলানিতে যাওয়া দলীয় সংগঠন নতুন করে ‘অক্সিজেন’ পেতে পারে। জেতার পর একে পাহাড়ের মানুষের জয় বলেও ঘোষণা করেছেন গুরুং।

সেই জায়গায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ জিটিএ প্রধান অনীত থাপা এবং তাঁর দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে চর্চা হচ্ছে। তিনি আগামী দিনে কী করেন, তা নিয়েও জল্পনা চলছে। অনীত অবশ্য বলেছেন, ‘‘আমরা নির্বাচিত বোর্ড চালাচ্ছি। পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এটাকে রক্ষা করাই আমাদের দায়িত্ব। ভোটে হার-জিত রয়েছে। জয়ীদের শুভেচ্ছা। বাকি সময় বলবে।’’

বিজেপি এবং বিজেপি ঘনিষ্ঠ পাহাড়ের দলগুলির একাংশ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, ষষ্ঠ তফসিলের মতো নানা দাবি করছেন। ভোটের আগে প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহও পাহাড়ের জন্য সরকার কিছু ঘোষণা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। পাহাড়ে বিজেপির এক নেতা বলেন, ‘‘রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় জিটিএ-র ক্ষমতাসীন দলের বোর্ড চালাতে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু জিটিএ নির্বাচিত বোর্ড। আচমকা তা সরানো যাবে না। আর পাহাড় নিয়ে দলকে ভেবেচিন্তে এগোতে হবে, না হলে তার প্রভাব গোটা রাজ্যে পড়বে।’’

পাহাড়ের ক্ষমতায় থাকা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার নেতারা জানান, বাম আমলে পার্বত্য পরিষদ এবং তৃণমূল আমলে জিটিএ পাহাড়ে হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পরে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা সামনে এসেছে। দু’টি প্রশাসনিক ব্য়বস্থা তৈরির সময় কেন্দ্রে কংগ্রেসের সরকার ছিল। এ বার প্রথম বার রাজ্যে বিজেপি সরকার। কেন্দ্রেও বিজেপি সরকার। ২০০৯ সাল থেকে বিজেপি পাহাড়ে নানা কথা বলেছে। এ বার তাদের করে দেখানোর পালা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

GTA Darjeeling

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy