×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২০ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

রাস্তায় রাস্তায় অবরোধ, জেলায় গোলমালে গ্রেফতার ২৭ জন

অফিস খোলা, চলল না বাস

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৭ নভেম্বর ২০২০ ০৪:০৭
৪১ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধ।

৪১ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধ।

বামপন্থী ও কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী ধর্মঘটের মিশ্র প্রভাব পড়ল পূর্ব মেদিনীপুরে। একদিকে যেমন সমস্ত সরকারি দফতর থোলা ছিল। রাস্তায় সরকরি বাস চলেছে। তেমন কাজের সূত্রে বের হওয়া মানুষজনকে বেসরকারি বাসের জন্য দিনভর হাপিত্যেশ করতে হয়েছে। হাওড়া-খড়্গপুর ও পাঁশকুড়া-হলদিয়া ও দিঘা রুটে লোকাল ট্রেন তললেও যাত্রীর সংখ্যা ছিল বেশ কম। জেলা সদর তমলুক শহর সহ জেলার অন্যান্য মহকুমার বিভিন্ন বাজারে একাধিক দোকানপাট বন্ধ ছিল। হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে অবশ্য বিভিন্ন সংস্থায় এবং বন্দরে স্বাভাবিক কাজকর্ম হয়েছে। শ্রমিকদের উপস্থিতির হারও অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল। ধর্মঘটের সমর্থনে রাস্তা অবরোধ-সহ বিক্ষিপ্ত গোলমালের জন্য ২৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জেলাশাসক বিভু গোয়েল বলেন, ‘‘জেলায় সব সরকারি অফিস খোলা ছিল।কর্মীদের হাজিরাও স্বাভাবিক ছিল।কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে হয়েছে। কোনও অফিসে কর্মীদের কাজে যোগ দিতে আসার পথে বাধার মুখে পড়তে হয়নি।’’ জেলা পুলিশ সুপার সুনীল যাদব বলেন, ‘‘জেলার বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ ও সরকারি অফিসে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে বড় কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি।’’     

এদিন সকাল ৬টা থেকে ধর্মঘটের সমর্থনে তমলুক শহরে মানিকতলামোড়, বড়বাজার, নিমতৌড়ি  বাজার, চণ্ডীপুর বাজার, নন্দকুমার,  মেচেদায় হলদিয়া-মেচেদা ৪১ নম্বর জাতীয় সড়কের ফ্লাইওভার-সহ একাধিক জায়গায় রাস্তায় নেমে পড়েন বামফ্রন্ট, এসইউসি, কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের সদস্য কর্মী-সমর্থক ও দলের নেতা কর্মী-সমর্থকরা। চণ্ডীপুর বাজারে নন্দকুমার-দিঘা ১১৬ বি জাতীয় সড়কে অবরোধের নেতৃত্বে ছিলেন সিপিএম জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি, আরএসপি জেলা সম্পাদক অমৃত মাইতি প্রমুখ। অবরোধের জেরে আটকে পড়ে দিঘা ও হাওড়াগামী সরকারি বাস। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ ওঠে। পাঁশকুড়ার মেচগ্রামে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বাম ও কংগ্রেস। অবরোধে নেতৃত্ব দেন সিপিএম বিধায়ক ইব্রাহিম আলি, প্রাক্তন সিপিআই বিধায়ক চিত্তরঞ্জন দাসঠাকুর প্রমুখ। পাঁশকুড়া থানার পুলিশ এসে অবরোধকারী হটিয়ে দেয়। হলদিয়া-মেচেদা ৪১ নম্বর জাতীয় সড়কে নিমতৌড়ি বাজারে এসইউসি ও তাঁদের শ্রমিক সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। মেচেদা বাজারে ফ্লাইওভারের উপরে ডিওয়াইএফ সমর্থকরা টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। পরে পুলিশ অবরোধ তুলে দেয়। পাঁশকুড়া স্টেশন বাজার, পাঁশকুড়া পুরাতন বাজার, কোলাঘাট বাজার এদিন স্বাভাবিক ছিল। সরকারি অফিসগুলিতে উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক।

Advertisement

হলদিয়া রিফাইনারি ও হলদিয়া বন্দরে উপস্থিতির হার ছিল অন্যান্য দিনের মতোই। অন্যান্য বেসরকারি সংস্থাতেও শ্রমিকদের উপস্থিতির হার ছিল স্বাভাবিক। এ দিন বন্দর থেকে ৩টি জাহাজ রওনা দিয়েছে। ২টি জাহাজ বন্দরে এসেছে। বন্দরে মোট ১৩টি জাহাজে মাল ওঠানো-নামানোর কাজ হয়েছে। রেলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণও স্বাভাবিক ছিল। তবে রাস্তায় সরকারি বাস থাকলেও দেখা মেলেনি বেসরকারি বাসের। নিত্যযাত্রীদের বেশি খরচা করে অটো-টোটো, ম্যাজিক ভ্যানে যাতায়াত করতে হয়েছে। ব্রজলাল চকে বনধ সমর্থনকারীরা অবরোধ করতে গেলে পুলিশ তাদের হটিয়ে দেয়। 

এ দিন ভোর থেকেই এগরা শহরে ত্রিকোণ পার্কে ও দিঘামোড়ে জমায়েত ও পথ অবরোধ করেন কর্মী-সমর্থকেরা। অবরোধ তুলতে গেলে ধর্মঘটীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় পুলিশের। এগরা শহরে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিস ও পোস্ট অফিস বন্ধ ছিল। পটাশপুরে কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা ও পোস্টঅফিস খোলা ছিল। ভগবানপুরে মিছিল ও পথ অবরোধ করেন বাম কর্মী-সমর্থকেরা। এ দিন এগরা মহকুমায় গণপরিবহণ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ব্যাঙ্ক খোলা থাকলেও অন্যদিনের মতো ব্যস্ততা দেখা যায়নি।

এ দিন সকাল থেকে বনধের সমর্থনে কাঁথি শহর জুড়ে মিছিল করে সিপিএম। মেচেদা বাইপাসে সিপিএম কর্মীরা পথ অবরোধ করলে পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দেয়। এদিন কাঁথি শহরে সিংহভাগ দোকান বন্ধ ছিল। তবে বিভিন্ন সরকারি দফতরে কাজ হয়েছে। ঝাঁপ বন্ধ ছিল একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের। দিঘা থেকে কলকাতা এবং মেদিনীপুর রুটে শুধুমাত্র সরকারি বাস পরিষেবা চালু ছিল‌। পর্যাপ্ত বেসরকারি বাস না মেলায় অফিস টাইমে নাচিন্দা, রামনগর, হেঁড়িয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাসস্টপে নিত্যযাত্রীদের ভিড় দেখা গিয়েছে।

সিপিএম জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহির অবশ্য দাবি, ‘‘ধর্মঘটে জেলার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছেন। এদিন সর্বাত্মক ধর্মঘট হয়েছে।’’

Advertisement