তার শৈশব আর পাঁচজনের থেকে আলাদা। বাবা-মায়ের সঙ্গে নয়, সে বড় হয়েছে অনাথ আশ্রমে। তা অবশ্য কিশোর বিশ্বনাথ সরেনের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের পথে বাধা হয়নি। জেলার প্রাথমিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ক বিভাগে লং জাম্পে প্রথম হওয়ার সুবাদে সবং বড়চারা পূর্বপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এই ছাত্র সুযোগ পেয়ে রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় লড়ার। সেখানেও পদক জেতাই লক্ষ্য বিশ্বনাথের।
জীবনের লড়াই অনেক আগেই শুরু হয়েছে বিশ্বনাথের। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছে। মা ইটভাটায় কাজ করেন। ছ’বছর বয়েসে কেশিয়াড়ির এই কিশোরের ঠাঁই হয় সবংয়ের বড়চারা অনাথবন্ধু অনাথ আবাসে। তার মা বছরে একবার দুর্গাপুজোর সময় এসে চারদিনের জন্য ছেলেকে বাড়ি নিয়ে যান। বিশ্বনাথের পড়াশোনায় হাতেখড়ি অনাথ আশ্রমের পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেই সঙ্গে খেলাধুলোয় সকলের নজর কাড়ে বিশবনাথ। অনাথ আবাসের পরিচালন কমিটির সম্পাদক হরিপদ জানা বলছিলেন, ‘‘অনাথ আশ্রমের ছেলেদের নিয়মিত মাঠে খেলাধুলো করানো হয়। যোগাসন, গান সবই নিয়মিত অভ্যাস করে তারা। বিশ্বনাথ খেলায় খুবই ভাল। আশাকরি রাজ্যস্তরে ভাল ফল করবে।’’
১৯-২১ ডিসেম্বর রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতাই এখন লক্ষ্য বিশ্বনাথেরও। সে বলে, ‘‘সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করব ভাল ফল করার।’’ অনাথ আবাসের বাকি ছেলেরাও আশাবাদী, রাজ্যস্তরে বিশ্বনাথ সফল হবেই।