একদিকে নিম্নচাপ আর অন্যদিকে পূর্ণিমার কোটাল। এমন জোড়া ফলায় উত্তাল দিঘার সমুদ্র। তাই সৈকত নগরীতে সপ্তাহ শেষের ছুটি কাটাতে যাওয়া পর্যটকেরা বেশ হতাশ। কারণ, সমুদ্র অশান্ত থাকায় স্নানের ব্যাপারে প্রশাসনের তরফে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এই বৃষ্টিতে খুশি কৃষকেরা। আমন ধানের বীজতলা তৈরির প্রক্রিয়ায় এই বৃষ্টি সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার সকাল থেকে ঘন কালো মেঘে ঢাকা ছিল আকাশ। বারবার মুষলধারায় বৃষ্টি হয়েছে দিঘা-সহ আশপাশের এলাকায়। বড়-বড় ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছে কংক্রিটের বাঁধানো পাড়ে। শনিবার সকাল থেকে পুরনো এবং নতুন দিঘায় পর্যটকদের ভিড় ছিল। কিন্তু একে বৃষ্টি, তার উপরে জোয়ারের সময় সমুদ্র অশান্ত হয়ে ওঠায় পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে দেওয়া হয়নি। হাওড়ার বালি থেকে সপরিবারে দিঘা বেড়াতে গিয়েছিলেন উত্তম রায়। তিনি বলছেন,"সমুদ্রে বিশাল ঢেউ হচ্ছে শুনে পরিবার নিয়ে চলে এসেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন কাউকেই সমুদ্রের ধারে যেতে দিচ্ছে না। ফলে দূর থেকে অশান্ত সমুদ্র দেখে আনন্দ উপভোগ করছি।" উত্তর ২৪ পরগনার বিজপুর থেকে একদল যুবক শনিবার দিঘায় এসেছিলেন। তাঁদের অন্যতম তমাল বিশ্বাস বলেন,"সমুদ্রে স্নান করার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত নামতে পারিনি।"
নিম্ন চাপের বৃষ্টিতে পুরনো দিঘার ব্যারিস্টার কলোনি, শিবালয় রোড-সহ বিভিন্ন রাস্তায় জল জমেছে। যাতায়াতে অসুবিধায় পড়েছেন পর্যটকেরা। সকাল থেকে সৈকতের ধারে প্রচুর পুলিশ এবং নুলিয়া নিয়োগ করা হয়। তাঁরা ধারাবাহিকভাবে পর্যটকদের সতর্ক করেছেন। দিঘা-শঙ্করপুর হোটেল মালিক সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন," সপ্তাহ-শেষের ছুটিতে শনিবার ভিড় ভাল ছিল। কিন্তু দুর্যোগের কারণে পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে।"
তবে বৃষ্টিতে খুশি কৃষকেরা। মাঠে অনেকটা জল জমায় আমন ধান চাষের কাজে সুবিধা হবে তাঁদের। জলসেচের প্রয়োজন হবে না। কেলেঘাই নদীর তীরবর্তী পটাশপুরের অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় এবং এগরার ছত্রী এবং দুবদায় মাঠে এত দিন আশানুরূপ বৃষ্টি না-হওয়ায় সমস্যা হচ্ছিল। এ দিন বৃষ্টিতে সকাল থেকে জমি কর্ষণ ও আমনের বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টিতে আগাছা নষ্ট হয়ে গিয়ে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সেচের খরচের সাশ্রয় হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)