খড়্গপুর আইআইটির ৭২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। মঞ্চে বসে একদা এই প্রতিষ্ঠান থেকে বিটেক, এমটেক থেকে গবেষণা করা প্রাক্তনী। যিনি এখন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা। সেই আইএএস সুব্রত গুপ্তকে কেন্দ্র ও রাজ্যের মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে শনিবার বিশেষ সম্মান প্রদান করল খড়্গপুর আইআইটি। সেই মঞ্চ থেকেই পড়ুয়াদের দেশের জন্য কাজের বার্তা দিলেন উপস্থিত অতিথিরা।
শনিবার ৩,৯৩৬জন পড়ুয়াকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ডিগ্রি প্রাপকদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা গত বারের তুলনায় ১২শতাংশ বেশি ছিল। এ বছরই প্রথম বিটেক পাসকোর্সে ডিগ্রি প্রদান করল আইআইটি। যাঁরা বিটেক অনার্স ডিগ্রির ন্যূনতম নম্বর অর্জন করতে পারেননি, তাঁদের মধ্যে ১০জনকে এই পাস ডিগ্রি দেওয়া হয়। মঞ্চে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও নিউ ইয়র্ক অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের সভাপতি নিকোলাস বি ডিরক্স। ছিলেন রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা খড়্গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ।
অন্য অতিথিদের সঙ্গেই স্মারক দিয়ে বিশেষ ভাবে সম্মানিত করা হয় ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠান থেকে বিটেক উত্তীর্ণ আইএএস সুব্রত গুপ্তকে। এখান থেকেই ১৯৮৯ সালে এমটেক ও ১৯৯৮ সালে গবেষণা শেষ করেন সুব্রত। তিনি বলেন, “অনেক দেশ ঘুরেছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করেছি। কিন্তু আমার দ্বিতীয় ঘর হিসাবে খড়্গপুর সব সময় মনে থেকেছে। নবীনদের বলছি যেখানেই যান, জীবনের শেষ পর্যন্ত খড়্গপুরকে মনে রাখবেন।” প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর সুমন মনে করান, “আইআইটির শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা।”
দেশ সেবার বার্তা দেন উপস্থিত সকলেই। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “বিদেশ নিশ্চয়ই যাবেন। শিক্ষার জন্য যান। আর সেবার জন্য দেশে ফিরে আসুন। থেকে যাবেন না ওখানে।” রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, আগামীতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামোগত উন্নতি, আইআইটি ও আইআইএমের মতো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে ফ্যাশন ডিজ়াইনিং প্রতিষ্ঠান খোলার লক্ষ্যে এগোচ্ছে রাজ্য। মন্ত্রী শারদ্বত স্মরণ করেন খড়্গপুরের প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়ক জ্ঞানসিংহ সোহন পালকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বার্তা, “২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হন, তখন কিউএস ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিংইয়ে ১১টি প্রতিষ্ঠান ছিল দেশের। আর এখন দেশের ৫৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই আইআইটি ২০৫ নম্বরে আছে। এটাকে ২০০-য় আনতে হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)