Advertisement
E-Paper

ভোট কড়চা

লোকজন বলছেন, ভাগ্যিস তিনতলা ভবনটার কোনও নাম রেখে যাননি রাধানাথ দাস অধিকারী। ১৯৬২ থেকে পাঁচ বছর কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন তিনি। ১৯৭২ সালে পটাশপুর থানার উল্টোদিকে ওই ভবন নির্মাণ করেন তিন ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। কল্পনাও করতে পারেননি তিন ছেলে তিন দলে যাবে।

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০১৬ ০০:৫০

একঘর রাজনীতি

লোকজন বলছেন, ভাগ্যিস তিনতলা ভবনটার কোনও নাম রেখে যাননি রাধানাথ দাস অধিকারী। ১৯৬২ থেকে পাঁচ বছর কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন তিনি। ১৯৭২ সালে পটাশপুর থানার উল্টোদিকে ওই ভবন নির্মাণ করেন তিন ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। কল্পনাও করতে পারেননি তিন ছেলে তিন দলে যাবে। বড় সোমনাথ তৃণমূলের নেতা ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। দলের ব্লক সভাপতি থাকার সময় তিনতলা ব্যবহার করতেন দলীয় কাজে। নিজের ভাগের নীচতলা ভাড়া দিয়েছেন ডাকঘরকে। মেজ অমরনাথ সিপিএম নেতা। দোতলা ঘর মাস কয়েক আগে থেকে দিয়েছেন পটাশপুর জোনাল কমিটিকে। পতপত করে উড়ছে দলীয় পতাকা। ছোট ছেলে শঙ্করনাথ নির্দল। তিনতলা থাকতে দিয়েছেন পুলিশকে। বড় ও মেজ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। সিপিআই প্রার্থী মাখনলাল নায়ক বলছেন, এটা নিয়ে বিতর্ক নেই কিন্তু। তাছাড়া,এবার নির্বাচনে জোট হয়েছে কংগ্রেস-বামে। পুলিশকর্মীরাও মজা করে বলছেন, এক ঘরে চার দল। নিরাপত্তা তো রাখতেই হবে।

Advertisement

তাঁদের অপেক্ষা

তৃণমূল এবং বামদল উভয়েই এই এলাকাকে বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাস কবলিত বলে আসছে। বাসিন্দারা বলেন, যখন যার শাসনকাল হয় তাঁদের ঢোকানো হয় সেই দলের খাঁচায়। পটাশপুর কেন্দ্রের বড়হাট ও চিস্তিপুর-১ পঞ্চায়েত এলাকা তৃণমূলের কবলে বলে দাবি করছে বামেরা। স্বয়ং সিপিআই প্রার্থী মাখনলালবাবু বলছেন, ওই এলাকায় তাঁদের লোকজন এখনও ঘরছাড়া। তৃণমূলের কাছে চিহ্নিত হয়ে যাওয়ার ভয়ে স্থানীয় বামেরা বৈঠকও করতে পারছেন না। এক সিপিএম নেতা বললেন, “দলের চারজনকে এক হতে দেখলেই ঘাসফুলের পতঙ্গরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। কাস্তে হাতুড়ি বের করতে দেবে না। তাঁরা সশস্ত্র অবস্থায় না আসা পর্যন্ত সাহস পাচ্ছে না কেউই।” এক বাসিন্দা রাখঢাক না করেই বলে ফেললেন, ২০১১ পর্যন্ত তাঁদের (আধা সামরিক বাহিনী) ভরসা করত ঘাসফুল। গাল দিত কাস্তে হাতুড়ি। আজ ঠিক উল্টো।

বাবার মতো..

প্রার্থী হিসাবে সবে নাম ঘোষণা হয়েছে সোমবার। মঙ্গলবার প্রচারে যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই পুরনো লোকজন বলছেন, আহা রে ছেলেটা বাবার মতোই দেখতে। বাবার মতো কথাও তো বলে। তেমনই সাদাসিধা। ‘ছেলেটা’ সম্বোধন তো হবেই। বয়স মাত্র ৪১। তাছাড়া তাঁর বাবা রঞ্জিৎ পাত্র ১৯৯১ সালে এই কেন্দ্রে জিতে বিধায়ক ছিলেন। তাঁর ছেলে শিশির এবার এসেছেন ভোট চাইতে। তাই বাবা ছেলের মিল অমিল খুঁজে বেড়াচ্ছেন অনেকেই। এক্ষেত্রেও মেরুকরণ হয়েছে বাম ও তৃণমূলে। শিশিরবাবু বলেন, “আসলে তরুণ বয়সেই বিধায়ক হিসাবে বাবাকে দেখে রাজনীতিতে এসেছি। তাঁকে অনুসরণ করেছি। কোথাও হয়তো অনুকরণও রয়ে গিয়েছে।” বামজোটের কর্মীদের পাশাপাশি শিশিরবাবুও চাইছেন যদি বাবার মতো তিনিও বিধায়ক হতে পারেন! বাবার মতো ......

সূর্যের ঠ্যালা

নারায়ণগড়ে সূর্যোদয়ের আশায় ঝাঁপাচ্ছে সিপিএম। বসে নেই তৃণমূলও। সূর্যকান্ত মিশ্রের প্রতিপক্ষ তৃণমূল প্রার্থী প্রদ্যোত ঘোষ যাতে এলাকায় পড়ে থাকতে পারেন সে জন্য রাতারাতি বাড়ি দেখা শুরু হয়েছে। প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে মেদিনীপুরে বাড়ি তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি প্রদ্যোতবাবুর। প্রতিদিন নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে যাতায়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন তিনি। তার উপর প্রতিপক্ষ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক হওয়ায় লড়াই কঠিন। আরও বেশি করে নির্বাচনী কেন্দ্রে সময় দিতে হবে তৃণমূল প্রার্থীকে। তাই এখন বেলদায় থাকবেন বলে ঠিক করেছেন প্রদ্যোতবাবু। ইতিমধ্যেই বেলদা শহরে তিনটি বাড়ি দেখা হয়েছে। এক তৃণমূল কর্মীর কথায়, “দু’টি বাড়ির মালিক ভাড়া চেয়েছেন। কিন্তু বেলদা অঞ্চল অফিসের কাছের বাড়িটিতে ভাড়া লাগবে না। ওই বাড়িটি এলাকার বড় ব্যবসায়ী পরিমল দেবনাথের। প্রদ্যোতবাবুর বাড়িটি পছন্দও হয়েছে। তবে এসি নেই। তাই ভাবনাচিন্তা চলছে।” তৃণমূলের নারায়ণগড় ব্লক সভাপতি মিহির চন্দ মানছেন, প্রার্থী এখানে থাকলে আরও বেশি প্রচারে সময় দিতে পারবেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ নিবিড় হবে।

সময় বাড়ন্ত

দলের জেলা সভাপতি পদে থেকে প্রার্থী হওয়া যে কি সমস্যার, টের পাচ্ছেন দীনেন রায়। দিনের একটা বড় অংশই চলে যাচ্ছে অন্য নির্বাচনী কেন্দ্রে। এ নিয়ে দীনেনবাবুর নিজের কেন্দ্র খড়্গপুরের কোনও কোনও কর্মীর অভিমানও কম ন।! মঙ্গলবার সকালে শালবনি গিয়েছিলেন দলীয় বৈঠকে। পরে গড়বেতায় বৈঠক করে। ফিরে এসে নিজের কেন্দ্রে কিছুটা সময় দিয়ে ফের কেশপুরে। রাতে সেখানে বৈঠক ছিল। খড়্গপুরের এক তৃণমূল কর্মীর ক্ষোভ, “দীনেনদাকে তো পাওয়াই যাচ্ছে না! যখনই ফোন করছি, বলছেন দলের কাজে বাইরে আছি। খড়্গপুরে কী হবে সেটা কে দেখবে!” দীনেনবাবু অবশ্য বলছেন, “কর্মীরা সব জানেন। মানিয়ে নিচ্ছেন। সমস্যার কী আছে!”

মহিলা বুথ

চেনা ছকের বাইরে অন্য কিছু! ভোটে এ বার হবে ম়ডেল বুথ। থাকবে মহিলা বুথও। বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এ বার ১২৩টি বুথকে মডেল বুথ বানানো হবে। থাকবে ১০টি মহিলা বুথও। যেখানে ভোটকর্মী থেকে পুলিশ, সকলেই মহিলা। মহিলা বুথগুলি অবশ্য শহরে করা হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলাশাসক সুশান্ত চক্রবর্তী। মডেল বুথে কী থাকবে? কী ভাবে বুথগুলি তৈরি করা হবে তা অবশ্য এখনও জানাতে নারাজ প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলাশাসকের কথায়, “সাধারণ বুথের থেকে মডেল বুথগুলি ভোটারদের কাছে আকর্ষণীয় হবে, এটা বলতে পারি।’’

শহিদ ভরসা

ঘর গোছানোর কাজ শেষ। লড়াইয়ে নামার আগে মন্দিরে পুজোও দিয়েছেন গড়বেতার তৃণমূল প্রার্থী আশিস চক্রবর্তী। ভোটের প্রচার শুরুর আগে বাদ গেল না ছোট আঙারিয়াও। এখানেই বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে একাধিক ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। মঙ্গলবার ছোট আঙারিয়ায় শহিদ বেদিতে মালাও দেন আশিসবাবু। আশিসবাবুর কথায়, “ঘরে আটকে পুড়িয়ে মারার মতো নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটিয়েছিল সিপিএম। তাই আমরা শহিদ বেদিতে মালা দিয়েছি। এ বার প্রচার শুরু করব।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy