ফের এক আলু চাষির অপমৃত্যু হল পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায়। শুক্রবার সকালে গড়বেতার গরঙ্গার সাপদহে প্রসেনজিত্ হাজরা (৪৪) নামে ওই কৃষকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, আলু চাষের সময় ঋণ নিয়েছিলেন প্রসেনজিত্বাবু। ন্যায্য দাম না মেলায় তা শোধ করতে পারেননি। তাই মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, প্রসেনজিত্বাবুর নিজের বিঘা দেড়েক জমি রয়েছে। আরও বিঘা তিনেক জমিতে আলু চাষ করেছিলেন তিনি। যদিও মেদিনীপুরের (সদর) মহকুমাশাসক অমিতাভ দত্ত বলেন, “গড়বেতার ওই ঘটনার সঙ্গে আলু চাষের সম্পর্ক নেই বলেই জেনেছি।’’ পুলিশ জানিয়েছে, অবসাদে আত্মঘাতী হন ওই চাষি।
পশ্চিম মেদিনীপুরে চাষির অপমৃত্যু এই প্রথম নয়। আগে চন্দ্রকোনা, আনন্দপুর, গড়বেতায় এমন ঘটনা ঘটেছে। জেলায় সাধারণত গড়ে ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ বার ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। স্বভাবতই গোড়ার দিকে বাজারে আলুর দাম কমে যায়। চাষিদের অভিযোগ, জেলার সর্বত্র সহায়ক মূল্যে আলু কেনা হয়নি। ফলে, অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ দিন সকালে ঘর থেকেই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় গড়বেতার ওই চাষির। পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেদিনীপুর মেডিক্যালে পাঠায়। মৃতের আত্মীয় কৃষ্ণসাধন ঘোষ বলেন, “আলু চাষের জন্য উনি ৫০-৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। আলু বিক্রি করে দাম পাননি। ঋণ শোধ করতে না পারায় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।’’