Advertisement
E-Paper

ঐতিহ্যে কোপ, বিরোধ বাড়ছে রাজপরিবারেই

ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি কেন্দ্রিক পর্যটন প্রকল্পটি নিয়ে রাজবাড়ির অন্দরেই শুরু হয়েছে বিরোধ। পর্যটন দফতরের উদ্যোগে রাজবাড়ির সিংহ দরজার বাইরে নির্মীয়মাণ ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সটি তৈরি করতে গিয়ে হেরিটেজ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন রাজ পরিবারেরই একাংশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেও মানছেন, প্রকল্পটি রূপায়ণের ফলে ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ির সামনের দৃশ্যপট কংক্রিটে ঢেকে যাচ্ছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:০৩
রাজবাড়ির সিংহ দরজার সামনেই তৈরি হচ্ছে ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স। (ইনসেটে) ৫০ বছর আগে রাজবাড়ির সিংহ দরজা। ছবি: দেবরাজ ঘোষ।

রাজবাড়ির সিংহ দরজার সামনেই তৈরি হচ্ছে ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স। (ইনসেটে) ৫০ বছর আগে রাজবাড়ির সিংহ দরজা। ছবি: দেবরাজ ঘোষ।

ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি কেন্দ্রিক পর্যটন প্রকল্পটি নিয়ে রাজবাড়ির অন্দরেই শুরু হয়েছে বিরোধ। পর্যটন দফতরের উদ্যোগে রাজবাড়ির সিংহ দরজার বাইরে নির্মীয়মাণ ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সটি তৈরি করতে গিয়ে হেরিটেজ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন রাজ পরিবারেরই একাংশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেও মানছেন, প্রকল্পটি রূপায়ণের ফলে ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ির সামনের দৃশ্যপট কংক্রিটে ঢেকে যাচ্ছে।
যদিও রাজ পরিবারের প্রধান সদস্য তথা ঝাড়গ্রামের পুরপ্রধান দুর্গেশ মল্লদেব এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে পরিবার সূত্রের খবর। রাজ পরিবার সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক কারণে দুর্গেশবাবু নিশ্চুপ রয়েছেন। সরকারি প্রকল্পের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরাগ ভাজন হতে চাইছেন না তিনি। কিন্তু দুর্গেশবাবুর ভাই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জয়দীপ মল্লদেব এবং দুর্গেশবাবুর ছেলে বিক্রমাদিত্য মল্লদেবই হেরিটেজ নষ্টের অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয়েছেন।
তাঁদের অভিযোগ, প্রথমে রাজবাড়ির সাবেক স্থাপত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পটি রূপায়ণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। সিংহদরজার সামনে আধুনিক নির্মাণ শৈলির উঁচু জলের ট্যাঙ্ক ও ওয়াচ টাওয়ার করা হয়েছে। প্রতিটি কটেজের সঙ্গে বিসদৃশ ভাবে শৌচাগারের সোকপিট করা হয়েছে। রাজবাড়ি ঢোকার মুখে এমন পরিবেশ রীতিমতো অস্বস্তিকর।
জয়দীপবাবুর কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে প্রকল্পটি রূপায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেভাবে কাজ হয়নি। প্রশাসনিকস্তরে বার বার আমরা আপত্তির কথা জানিয়েছি। পর্যটন ও পূর্ত দফতরের আমলারা আমাদের কোনও কথাই শোনেননি।’’ এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি বিষয়টি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জয়দীপবাবুরা।
এ দিকে ১০ অক্টোবর ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সটি মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। সেই মতো বৃহস্পতিবার পর্যটন দফতরের প্রধান সচিব অজিতরঞ্জন বর্ধন প্রকল্প পরিদর্শনে এসে মেজাজ হারান। প্রকল্পটি রূপায়ণে গরমিল ও বাড়তি খরচ করা হচ্ছে দাবি করে বেশ কিছু সৌন্দর্যায়নের কাজ বাতিল করে দেন তিনি। কিন্তু পর্যটন সচিবকে হাতের নাগালে পেয়েও কোনও অভিযোগ জানাননি দুর্গেশবাবু। তবে রাজ পরিবারের আইনজীবী কৌশিক সিংহ প্রধান সচিবকে জানান, পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাকি কাজগুলি অন্তত করা হোক। রাজবাড়ির হেরিটেজ ভবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক ভবন ও কটেজগুলির বাইরের সৌন্দর্যায়ন ও রং করার অনুরোধ জানান কৌশিকবাবু।

এ প্রসঙ্গে শুক্রবার দুর্গেশবাবু বলেন, ‘‘পর্যটন দফতরের প্রধান সচিব তো বলেছেন প্রকল্পটিতে সমস্যা রয়েছে। উনি পূর্ত দফতরকে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার নির্দেশ দিয়েছেন।’’ কিন্তু দুর্গেশবাবুও কি ভাবছেন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে জানানোর কথা? বিরক্ত দুর্গেশবাবুর জবাব, ‘‘পরিবারের তরফে জয়দীপ তো বলেছেন। আমি বলেন জেলাশাসকের মাধ্যমে প্রশাসনিকস্তরে আলোচনা করব।’’

পর্যটন দফতর ও রাজ পরিবারের যৌথ উদ্যোগে রাজপ্রাসাদের সিংহদরজার বাইরে ১৫ একর বিশাল এলাকা জুড়ে ওই ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হচ্ছে। ওই প্রকল্পটি রূপায়নের জন্য দু’বছর আগে ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে রাজ্য সরকার ও রাজ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মৌ স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি রূপায়ণের জন্য ১০ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সাড়ে তিন কোটি টাকার কাজ হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy