Advertisement
E-Paper

কমলালেবুর পায়েসে জমজমাট পিঠে মেলা

বাঙালির পিঠে বিলাসের কথা কারও অজানা নয়। পিঠেরও আছে অনেক বাহার। শীতে জমিয়ে দুধ পুলি, সরুচাকলি, রসসাপটা,আসকে পিঠে খাওয়ার স্মৃতি ভোলার নয়, বলছিলেন প্রবীণ সুবিমলবাবু। আর সেই পিঠে নিয়ে যদি হয় মেলা, তবে সেখানে যে আপামর বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়বেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

সুব্রত গুহ

শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৬ ০০:৫১
পছন্দের পিঠে কিনতে ভিড় স্টলে। সোহম গুহর তোলা ছবি।

পছন্দের পিঠে কিনতে ভিড় স্টলে। সোহম গুহর তোলা ছবি।

বাঙালির পিঠে বিলাসের কথা কারও অজানা নয়। পিঠেরও আছে অনেক বাহার। শীতে জমিয়ে দুধ পুলি, সরুচাকলি, রসসাপটা,আসকে পিঠে খাওয়ার স্মৃতি ভোলার নয়, বলছিলেন প্রবীণ সুবিমলবাবু। আর সেই পিঠে নিয়ে যদি হয় মেলা, তবে সেখানে যে আপামর বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়বেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শুক্রবার থেকে তিন দিন ব্যাপী পিঠেপুলি মেলা আয়োজিত হল কাঁথি শহরের রাও রিক্রিয়েশন ক্লাব মাঠে। উদ্যোক্তা কাঁথি পুরসভা। রবিবার ছিল মেলার শেষ দিন।

মেলায় রকমারি পিঠের আস্বাদ নিতে ভিড় জমায় ছয় থেকে ষাট সকলেই। নিত্যনতুন পিঠে চেখে দেখতে মেলায় হাজির কাঁথি মডেল স্কুলের ক্লাশ এইটের ঋচিক পাল। এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি চন্দ্রামণি ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয়ের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মিমোশা ঘোড়াইও। পিঠের স্বাদ কেমন লাগল? সকলেরই একটাই উত্তর, দারুণ। মায়ের সঙ্গে মেলায় এসে নলেন গুড়ের পায়েসও চেখে দেখেছে ঋচিক। তাঁর অবশ্য একটাই আক্ষেপ, গতবার পিঠেপুলি মেলা চার দিন ধরে হয়। এ বারও তাই হলে ভাল হত।

কাঁথি পুরসভার ২১টি ওয়ার্ডের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা তৈরি করেছেন এই পিঠে। মেলায় ২১টি স্টলে এক একটি ওয়ার্ডের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা তাঁদের পিঠের সম্ভার নিয়ে হাজির হন। গত শুক্রবার সন্ধেয় পিঠেপুলির মেলার উদ্বোধন করেন কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধান সৌমেন্দু অধিকারী। পুরপ্রধান সৌমেন্দুবাবু বলেন, ‘‘প্রায় হারিয়ে যেতে বসা পিঠেপুলির সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনার মেলার মূল লক্ষ্য। তবে শহরের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিও যাতে লাভবান হতে পারে সে জন্যও এই মেলার আয়োজন।”

Advertisement

রবিবার পিঠেপুলি মেলার শেষদিনেও উপচে পড়ে ভিড়। এ বার চন্দ্রকাট আর কমলাবেবুর পায়েস করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সাত নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা। গোষ্ঠীর নেত্রী ও প্রাক্তন কাউন্সিলর সুমিতা গিরির দাবি, “মেলায় বিক্রি ভালই হচ্ছে। রবিবার বিকেল পর্যন্ত মেলার ২১টি স্টলে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার পিঠেপুলি বিক্রি হয়েছে।” মেলায় বিক্রির তালিকায় প্রথমের দিকে কমলালেবুর পায়েস, সুজি-ময়দা দিয়ে তৈরি চন্দ্রকাট, মসুরডালের রসপুলি। পাটিসাপ্টা, সরুচাকলি, গোকুল পিঠের চাহিদা তো আছেই। পিঠের দাম ছিল ১০-২৫ টাকার মধ্যে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য দেবী গিরি, শিউলি দত্তদের কথায়, “মা-ঠাকুমাদের হাতের তৈরি পিঠেপুলি আজও যে একইরকম জনপ্রিয় মেলার ভিড় থেকেই তার প্রমাণ মিলল।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy