রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল এক কলেজ ছাত্রীর। মৃতার নাম বিষ্ণুপ্রিয়া মাইতি (১৯)। মেদিনীপুর কেডি কলেজের প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রীর বাড়ি কোলাঘাটের পাকুড়িয়া গ্রামে। ২২ জুন বিকেলে পাকুড়িয়ার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন বিষ্ণুপ্রিয়া। মেচেদা স্টেশন থেকে মেদিনীপুরগামী ট্রেনে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু ওই সন্ধ্যায় হাওড়ার নাউপালার কাছে রেললাইনের ধার থেকে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রেল পুলিশ। মাথায় আঘাত লাগায় অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে প্রথমে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে এবং পরে কলকাতার এসএসকেএমে ভর্তি করানো হয়। শনিবার কলকাতার হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়।
বিষ্ণুপ্রিয়ার বাবা পূর্ণচন্দ্র মাইতি জানান, গত মঙ্গলবার থেকে তাঁর মেয়ের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। কেশপুর কলেজে পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল। বাড়িতে এসেছিলেন প্রয়োজনীয় টাকা পয়সা নিত। পূর্ণচন্দ্রবাবু বলেন, ‘‘ওই দিন মেদিনীপুরের কলেজ হোস্টেলে ফিরে যাবে বলে বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। রাত অবধি ফোন না করায় আমরা ওর মোবাইলে ফোন করি। কিন্তু দেখি মেয়ে মোবাইল ফোন বাড়িতে ফেলে গিয়েছে।’’ পরদিন উলুবেড়িয়া জিআরপি ফোন করে দুর্ঘটনার খবর জানায়।
প্রশ্ন উঠছে মেচেদা থেকে মেদিনীপুরের ট্রেনে না উঠে হাওড়ার দিকের ট্রেনে উঠলেন কেন বিষ্ণুপ্রিয়া। রেলপুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই তরুণী ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর পরিবার কিন্তু জানিয়েছে মেয়ের কোন সমস্যা ছিল বলে তাঁদের জানা নেই। পরিবারের সঙ্গেও কোনও মনোমালিন্য হয়নি। তা সত্বেও কিভাবে এমন ঘটল বুঝতে পারছি না। এখনও পর্যন্ত পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।