কলকাতা থেকে ফেরার পথে লরির সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কায় মৃত্যু হল এক বৃদ্ধ দম্পতি-সহ তিনজনের। গুরুতর আহত হয়েছেন এক দম্পতি ও তাঁদের ছেলে-সহ তিন জন। মঙ্গলবার রাতে চণ্ডীপুর থানার গড়গ্রামের কাছে দিঘা-কলকাতা সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে রাতে তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসার জন্য তাঁদের কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম হরিপদ করমহাপাত্র (৭৬) , ইন্দিরা করমহাপাত্র ( ৭০) ও সাধন পণ্ডা ( ৩৫ )। হরিপদবাবু ও ইন্দিরা দেবী পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর থানার কেউট খলিসা গ্রামের বাসিন্দা।
দু’জনেই অবসরপ্রাপ্ত হাইস্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকা। চালক সাধন পণ্ডার বাড়ি কাঁথি শহরে। আহত হয়েছে হরিপদবাবুর জামাই মাধব মিশ্র, মাধববাবুর স্ত্রী শুক্লা মিশ্র ও তেরো বছরের ছেলে মনোশিষ মিশ্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাধব মিশ্র কাঁথি পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষক। মাধববাবুর স্ত্রী শুক্লা দেবী ও ছেলে মনোশিষ কাঁথি মডেল হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। মাধববাবুর শ্বশুর হরিপদবাবু ও শাশুড়ি ইন্দিরাদেবী কয়েকদিন আগে কাঁথিতে এসেছিলেন। মাধববাবু কলেজের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য ও তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সকালে একটি গা়ড়ি ভাড়া করে মাধববাবু, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও শ্বশুর-শাশুড়ি কলকাতায় গিয়েছিলেন।
কলকাতা থেকে কাঁথিতে বাড়ি ফেরার পথে রাত সাড়ে ১০ টা নাগাদ চণ্ডীপুর থানার গড়গ্রাম পাকা পুলের রাস্তা দিয়ে ফিরছিল কাছে মাধববাবুদের গাড়িটি। সেই একটি লরিকে পাশ কাটাতে গিয়ে একটি ধান বোঝাই লরির সঙ্গে গাড়িটির মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এতে ট্যাক্সির সামনের দিকে আসনে বসে থাকা হরিপদবাবু ও তাঁর স্ত্রী ইন্দিরাদেবী এবং চালক সাধন পণ্ডা ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
গাড়ির পিছনের আসনে বসে থাকা মাধববাবু, তাঁর স্ত্রী শুক্লাদেবী ও ছেলে মনোশিস গুরুতর আহত হয়। তাঁদের প্রত্যেকের মাথায় আঘাত লাগে। রাতেই তাঁদের তমলুক জেলা হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকেই লরির চালক পলাতক।
বুধবার সকালে কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই খাদানের কাছে লরির সঙ্গে ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত সৌমেন সামন্ত (২৩ ) কোলাঘাটের পুলশিটা এলাকার যোগীবেড় গ্রামের বাসিন্দা।
এদিন সকালে সৌমেনবাবু মোটরবাইক চালিয়ে কোলাঘাটের দিক থেকে মেচেদার দিকে আসার পথে ছাইখাদানের কাছে একটি লরির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়। লরির চালক পলাতক।