Advertisement
E-Paper

ফের গাড়ির চাকা খুলে পালাল দুষ্কৃতীরা

আবারও রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা লরির চাকা খুলে নিয়ে পালানোর ঘটনা ঘটল। সোমবার রাতে কোতয়ালি থানা এলাকার হরিশপুরের ঘটনা। এ বার এক সঙ্গে একাধিক লরির চাকা খোলার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিল দুষ্কৃতীরা। আশপাশের লোক জেগে যাওয়ায় তা অবশ্য হয়নি। তবে আগ্নেয়াস্ত্র দেখানোয় স্থানীয় মানুষ প্রতিরোধও গড়তে পারেনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০১৪ ০০:৩০

আবারও রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা লরির চাকা খুলে নিয়ে পালানোর ঘটনা ঘটল। সোমবার রাতে কোতয়ালি থানা এলাকার হরিশপুরের ঘটনা। এ বার এক সঙ্গে একাধিক লরির চাকা খোলার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিল দুষ্কৃতীরা। আশপাশের লোক জেগে যাওয়ায় তা অবশ্য হয়নি। তবে আগ্নেয়াস্ত্র দেখানোয় স্থানীয় মানুষ প্রতিরোধও গড়তে পারেনি। ফলে একটি ব্যাটারি-সহ লরির চারটি চাকা ও আর একটি লরির ব্যাটারি নিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। এই নিয়ে এক সপ্তাহে পরপর তিন বার গাড়ির চাকা চুরির ঘটনা ঘটল কোতয়ালি থানা এলাকায়। লরির মালিক আনসার মল্লিক বলেন, “তিন দিন আগে নতুন টায়ার কিনেছিলাম। তাও চুরি হয়ে গেল। কি ভাগ্যি আশপাশের লোক জেগে গিয়েছিল। না হলে পাশের লরিটিরও সব চাকা নিয়ে পালাতো দুষ্কৃতীরা।”

এক সপ্তাহে পাশাপাশি এলাকা থেকে তিনটি গাড়ির চাকা চুরি হওয়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তাকেই দায়ী করছেন লরির মালিকেরা। কারণ, প্রতিদিনই চুরির ঘটনা ঘটে চলেছে। অথচ এখনও পর্যন্ত পুলিশ চুরির কিনারা দূরের কথা, একজন দুষ্কৃতীকেও আটক পর্যন্ত করতে পারেনি। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তাহলে কী দুষ্কৃতী চক্রের সঙ্গে এক শ্রেণির পুলিশ কর্মী-আধিকারিকদের যোগসাজশ রয়েছে। এই প্রশ্ন ওঠার পিছনে বেশ কয়েকটি যুক্তি রয়েছে গাড়ির মালিকদের। প্রথম দিন ধর্মাতে চুরি গিয়েছিল, তারপর ধর্মা লাগোয়া মোহনপুর থেকে। আর সোমবার রাতে চুরি গেল মোহনপুর থেকে অদূরে পাথরা যাওয়ার পথে হরিশপুর থেকে। হরিশপুরে পাশাপাশি দু’টি লরি দাঁড়িয়ে ছিল। দু’টি লরির মালিকই আনসার মল্লিক। একটির চাকা ও ব্যাটারি খোলার পর দ্বিতীয় ব্যাটারি খুলে নেয় দুষ্কৃতীরা। চাকা খোলার কাজও শুরু করে। তখনই লোক জেগে যাওয়ায় চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। লরির চাকা বড় গাড়ি করে নিয়ে যেতে হয়। তাছাড়াও সেগুলি নিয়ে যেতে হবে রাস্তার উপর দিয়েই। তাছাড়াও চাকা খুলতে বেশ কিছুটা সময়ও লাগে। প্রতিটি রাস্তাতেই রাতে পুলিশি টহল থাকার কথা। তা সত্ত্বেও চাকা খোলার সময় কেন তা টহলদারি ভ্যানের নজরে পড়ছে না। গাড়ি মালিকদের কথায়, “এক একটি চাকার দামও অনেক। টায়ার সমেত এতগুলি চাকা এক সঙ্গে কেনার লোকও কম রয়েছে স্থানীয় বাজারে। এক্ষেত্রে ভরসা হাওড়া বা কলকাতা। ফলে অনেকটা রাস্তা পার হয়ে যেতে হয়। তবু একটা গাড়িও কেন ধরা পড়ছে না।”

কোতয়ালি থানার পুলিশের দাবি, এই ধরনের চুরি এই এলাকায় প্রথম শুরু হয়েছে। ফলে এই চক্রটি চিহ্নিত করতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে নেই। লরি বা বাসের এক জোড়া টায়ারের দাম ৩৭ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা। রিমের দামও প্রায় ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ চারটি চাকা খুলতে পারলেই প্রায় ১ লক্ষ টাকা মিলবে! সে টানেই দুষ্কৃতীরা একের পর এক ঘটনা ঘটিয়েই চলেছে। অভিযোগ, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার ফলেই ঘটছে এই ঘটনা। পুলিশের এক কথা, তদন্ত চলছে।

medinipur car wheel stolen harishpur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy