Advertisement
E-Paper

মুখরুচির সন্ধানে তাণ্ডব দাঁতালদের

মুখরুচির জন্য একটু স্বাদ বদল দরকার। তাই গোটা পনেরো ছোট মাপের নারকেল গাছ ভেঙে পাতা আর শাস খেল হাতির দল। তারপর শুঁড় বাড়িয়ে পাশের পুকুর থেকে খানিকটা জল খেয়ে দিব্যি হাঁটা লাগায় জঙ্গলের দিকে। এ দিকে সাধের নারকেল গাছের হাল দেখে চক্ষুচড়কগাছ মালিকের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:০২
উপড়ে রয়েছে গাছের কাণ্ড। —নিজস্ব চিত্র।

উপড়ে রয়েছে গাছের কাণ্ড। —নিজস্ব চিত্র।

মুখরুচির জন্য একটু স্বাদ বদল দরকার। তাই গোটা পনেরো ছোট মাপের নারকেল গাছ ভেঙে পাতা আর শাস খেল হাতির দল। তারপর শুঁড় বাড়িয়ে পাশের পুকুর থেকে খানিকটা জল খেয়ে দিব্যি হাঁটা লাগায় জঙ্গলের দিকে। এ দিকে সাধের নারকেল গাছের হাল দেখে চক্ষুচড়কগাছ মালিকের।

মঙ্গলবার রাতে চন্দ্রকোনা থানার ধর‌মপুরের ঘটনা। জানি গিয়েছে ওই রাতেই ধানকুড়িয়া জঙ্গলের ১০-১২টি হাতির পাল রামগড়, ধানকুড়িয়া প্রভৃতি গ্রামে ঢুকে কয়েক একর মাঠের আলু নষ্ট করেছে। সর্ষে খেত লন্ডভন্ড করে ঘাটাল-চন্দ্রকোনা সড়কের উপর দিয়ে ধরমপুর গ্রামে ঢুকেছিল হাতির পালটি। এর আগে ধরমপুর গ্রামে হাতি ঢোকেনি। জঙ্গল থেকে অনেকটা দূরে বলেই হাতি আসে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু, এ দিন ধরমপুরে ঢুকে পালটির নজরে পড়ে একটি বড় পুকুরের দু’পাশে নারকেল গাছের সারি। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ শুরু হয় ভোজন পর্ব।

হাতির শব্দেই ঘুম ভেঙেছিল বাসিন্দাদের। কিন্তু পটকা বা হুলা জ্বালানোর কোনও ব্যবস্থা ছিল না। তাই তাঁরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন সেই বিশাল ভোজন পর্ব। একটা একটা করে প্রায় দশটার বেশি গাছ ততক্ষণে খেয়ে ফেলেছে হাতির দল। কোনওটা মাটি থেকে তুলে কোনও গাছ মাঝখান থেকে মটকে দিব্যি চলেছে খাওয়া দাওয়া।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পাতা তো বটেই, কচি গাছের পাতার গোড়ায় যে শাস হয়, তাও চেটেপুটে খেয়েছে হাতি। সে সময় খড় জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেন তাঁরা। যদিও তখন সব গাছ সাবড়ে দিয়েছে হাতি গুলি। চেঁচামেচি, আগুনের আলো যে তাদের মনঃপুত হচ্ছে না, তর্ঝন-গর্জন করে তাও জানান দিয়েছে তারা। তবে কোনও কিছুকেই তেমন পরোয়া করেনি দামালের দল। পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে গর্জন করতে করতেই শুঁড় বাড়িয়ে জল খেয়েছে পুকুর থেকে। তারপর নিশ্চিন্ত দুলকি পা এগিয়ে গিয়েছে জঙ্গলের পথে।

খবর পেয়ে ধরমপুরে পৌঁছে যান বন দফতরের কর্তারাও। হাতির তাণ্ডবে সাধের নারকেল গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হতভম্ব হয়ে যান যাদব সামন্ত। তিনি বলেন, “হাতির অত্যাচারের কথা অনেক শুনেছি। তা বলে আস্ত নারকেল গাছ ভেঙে দিয়ে পাতা খাবে, ভাবিনি।” প্রতিবেশী অমল সামন্ত জানলেন, যাদববাবু প্রতিদিন গাছগুলির যত্ন করতেন। কিছু গাছে ডাবও ধরেছিল। তাঁর আক্ষেপ, ‘‘নিমেষের মধ্যে এতদিনের কষ্ট সব শেষ করে দিয়ে পালালো হাতির পাল।”

বন দফতরের ডিএফও বিজয় শালিমঠ জানান, এ ধরনের খাবার সাধারণত হাতি কম খায়। তবে এই স্বাদ বদল হাতির ক্ষেত্রে ওষুধের কাজ করে। আবার হয়ত একই খাবার খেয়ে খেয়ে বিরক্ত হয়ে স্বাদ বদলের জন্য নারকেল গাছ খেয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy