ঝটিতি সফরে শুক্রবার শালবনির সিমেন্ট কারখানা ঘুরে দেখলেন ‘জেএসডব্লু’র চেয়ারম্যান সজ্জন জিন্দলের ছেলে পার্থ জিন্দল। কারখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, সংস্থার এক জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে শুক্রবার কলকাতায় এসেছিলেন তিনি। সেখান দুপুরে হেলিকপ্টারে শালবনি আসেন তিনি। কিছুক্ষণ কারখানা চত্বর ঘুরে দেখে ফের হেলিকপ্টারেই ফিরে যান। তবে বাইরের কারও সঙ্গে কথা বলেননি। জমিদাতাদের সংগঠন ‘শালবনি জেএসডব্লু ল্যান্ড লুজার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ সৌজন্য সাক্ষাতের আবেদন করলেও কারখানা থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, পার্থ অত্যন্ত ব্যস্ত। পরে দেখা করবেন। জিন্দলদের শালবনি কারখানার দায়িত্বে থাকা অলোক ভট্টাচার্য বলেন, “নিজের চোখে কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেই উনি এসেছিলেন। কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। আশা করি, প্রতিশ্রুতি মতো ২০১৭ সালেই উৎপাদন শুরু করতে পারব।’’
জেএসডব্লু শালবনিতে এশিয়ার বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছিল। ২০০৭ সালে শালবনির বাকিবাঁধ, বাঁশকোপনা, আসনাশুলি, বরজু, শালডাংরা, নূতনডিহি চন্দনকাঠা, আড়াবাড়ি এলাকায় ৪৩৩৪ একর জমি নেওয়া হয়। ২৯৪ একর জমি চাষিদের থেকে কিনে নেন কর্তৃপক্ষ। তবে ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর ইস্পাত কারখানার শিলান্যাস সেরে ফেরার পথে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কনভয় লক্ষ করে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ হয়। ইস্পাত প্রকল্পে প্রশ্নচিহ্ন পড়ে যায়। ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর সজ্জন জিন্দল ইস্পাত কারখানা তৈরি স্থগিত বলে ঘোষণা করেন। জমিদাতারা আন্দোলনে নামেন। তাকে সমর্থন জানায় শাসক দল তৃণমূলও।
পরবর্তীকালে ইস্পাত কারখানার পরিবর্তে সিমেন্ট কারখানা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন জিন্দলরা। গত ৬ জানুয়ারি তার শিলান্যাসে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন পার্থ জিন্দল কারখানায় কাজের অগ্রগতি দেখতে আসায় আশার আলো দেখছেন জমিদাতারা। সংগঠনের সম্পাদক পরিষ্কার মাহাতো বলেন, “উনি এসেছেন শুনে মনে হচ্ছে, নিশ্চয়ই আমাদের ভালই হবে।’’