E-Paper

বন্দর ছেড়ে ববি কি রাজ্যসভায়, চর্চা তৃণমূলে

আগামী এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার মোট পাঁচটি আসন খালি হবে। তার মধ্যে তৃণমূলের দখলে রয়েছে চারটি আসন। সিপিএমের আইনজীবী-সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যেরও মেয়াদ ফুরোবে। তবে ওই পঞ্চম আসনটি এ বার বিরোধী দল বিজেপির ভাগে যাওয়ার কথা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪৯
ফিরহাদ হাকিম।

ফিরহাদ হাকিম। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে হইচইয়ের আড়ালে রাজ্যসভার প্রার্থী নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিমকে এ বার রাজ্যসভায় এবং ববির বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁর কন্যাকে প্রার্থী দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্ন ঘুরছে শাসক শিবিরে। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে কেউ এই নিয়ে মন্তব্য করতে নারাজ।

আগামী এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার মোট পাঁচটি আসন খালি হবে। তার মধ্যে তৃণমূলের দখলে রয়েছে চারটি আসন। সিপিএমের আইনজীবী-সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যেরও মেয়াদ ফুরোবে। তবে ওই পঞ্চম আসনটি এ বার বিরোধী দল বিজেপির ভাগে যাওয়ার কথা। তৃণমূলের চার সাংসদের মধ্যে মৌসম বেনজির নূর ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার সদস্য-পদে ইস্তফা দিয়ে কংগ্রেসে ফিরে গিয়েছেন। সেই জায়গায় নতুন মুখ আনতেই হবে তৃণমূলকে। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী স্বাস্থ্যের কারণে আর রাজ্যসভায় যেতে আগ্রহী হবেন কি না, সংশয় রয়েছে দলের অন্দরেই। বাকি দুই সাংসদ সাকেত গোখলে ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে কী করণীয়, তা নিয়ে শাসক দলের অন্দরে আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যৌথ সম্মতিতেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

তৃণমূলের একটি সূত্রের খবর, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ববিকে এ বার রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিনি আর বিধানসভায় প্রার্থী হবেন না। নিয়ম অনুযায়ী, সাংসদ হলেও কলকাতা পুরসভার মেয়র থাকতে কোনও বাধা নেই। ববি রাজ্যসভায় চলে গেলে কলকাতা বন্দর কেন্দ্র থেকে বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী করা হতে পারে তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিমকে। এসআইআর-পর্বে ইতিমধ্যেই প্রিয়দর্শিনীকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতার কেন্দ্র ভবানীপুর ও ববির কেন্দ্র বন্দরে দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়ছে। দলের একাংশের মতে, যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। একটি সূত্রের দাবি, ববি নিজেও দিল্লি-কলকাতার এই রফা-সূত্রে আগ্রহী। বাকিটা নির্ভর করছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের পছন্দ ও তৃণমূল নেত্রী মমতার অনুমোদনের উপরে।

বস্তুত, পরবর্তী প্রজন্ম রাজনীতিতে এসে মমতার নেতৃত্বে কাজ করুক, এই ইচ্ছা ববির অনেক দিনেরই। রাজ্যসভার প্রার্থী সংক্রান্ত প্রশ্নে ববির বক্তব্য জানা যায়নি। তাঁর ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, ‘‘দিদি নিজের ‘টিম’ নিয়ে কাজ করেন। ববিদা’কে দিল্লি পাঠাতে দিদি রাজি হবেন বলে মনে হয় না। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিদিই নেবেন।’’ প্রিয়দর্শিনীও বলছেন, ‘‘আমি ভবানীপুর কেন্দ্রে থাকি, বন্দরেও অনেক দিন ধরে কাজ করছি। দলের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে, বিএলএ-বিএলও’দের চিনি। সেই সূত্রে দুই কেন্দ্রে এসআইআর-সমন্বয়ের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। বাকি বিষয়টা আমার মনে হয় জল্পনা।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘প্রার্থী সংক্রান্ত ব্যাপারে আমার কিছু জানাও নেই।’’

রাজ্যে মন্ত্রিত্ব থেকে সরে ববির রাজ্যসভায় যাত্রার প্রশ্নে কিছু ‘যদি-কিন্তু’ আছে শাসক শিবিরের অন্দরে। তৃণমূলের একটি সূত্রের মতে, সংসদে যে ধরনের প্রতিনিধি অভিষেক পছন্দ করেন, ববি কি সেই তালিকায় পড়েন? দ্বিতীয়ত, বাবাকে রাজ্যসভা ও মেয়েকে বিধানসভায় প্রার্থী করতে হলে এক পরিবার থেকে দু’জনকে টিকিট দিতে হয়। তেমন হলে তৃণমূলে এমন আরও দাবিদার পরিবার উঠে আসবে। মমতা-অভিষেক কি সম্ভাবনা তৈরি করতে দেবেন? শাসক দলের এক রাজ্য নেতার বক্তব্য, ‘‘এই ভাবনা ববির পক্ষে ভাল। কিন্তু বাকি দিকগুলো ভাবতে হবে। বিধানসভার তালিকা প্রস্তুতি এগিয়ে গিয়েছে। রাজ্যসভাতেও কী করণীয়, মমতা এবং অভিষেক ঠিক করবেন।’’ একটি সূত্রের ইঙ্গিত, তৃণমূলের রাজ্যসভার দল থেকে প্রয়োজন মতো কাউকে কাউকে বিধানসভায় লড়তে ডাকা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতেই সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

FirhadHakim TMC Rajya Sabha

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy