পাঁচ পাঁচবার ভেস্তে যাওয়ার পর ষষ্ঠ বারে বার্ষিক বাজেট পাশ নিয়ে মঙ্গলবার তুলকালাম কাণ্ড ঘটল সাগরদিঘির মণিগ্রাম পঞ্চায়েতে। পঞ্চায়েত অফিসেই ঘর বন্ধ করে তৃণমূলের মহিলা প্রধানকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলেরই সাগরদিঘির পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে। দাবি, প্রধানকে অশ্লীল গালিগালাজও করা হয়েছে। মশিউর অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে জঙ্গিপুরের তৃণমূল জেলা সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, “পঞ্চায়েত সভাপতি যা ঘটিয়েছেন, তা বরদাস্ত করা যায় না।’’
আরও অভিযোগ, এ সব কিছু ঘটার আগেই কয়েক জন যুবক পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকে সিসি ক্যামেরাগুলি অকেজো করে দেয়।
অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান। সেই খলিলুরও এই ঘটনায় দলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির আচরণে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। খলিলুর বলেন, “পঞ্চায়েত সভাপতি যা ঘটিয়েছেন, তা বরদাস্ত করা যায় না। জেলা পরিষদের মহিলা দলীয় সদস্যকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছে। মহিলা প্রধানকে ঘর বন্ধ করে মারধর করেছেন। আমি প্রধানকে বলেছি আগে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করাতে এবং পুলিশের কাছে যা ঘটেছে তা জানিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে। এটা মানা যায় না। পুলিশকে বলব কড়া ব্যবস্থা নিতে। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে সব জানাব।”
দীর্ঘ দিন ধরে তৃণমূলের সদস্যদের মধ্যে গোলমালের জেরে বার্ষিক সাধারণ সভা ডেকে বাজেট পাশ করানো যাচ্ছিল না।
প্রধান আলিয়ারা বিবি বলেন, “আগে ৫ বার সভা হলেও কোরাম হয়নি। ফলে বাজেট সভা ভেস্তে যায়। মঙ্গলবার তাই সাংসদ খলিলুর রহমান, বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস, একাধিক জেলা পরিষদ সদস্য ও প্রচুর সংখ্যায় পুলিশ হাজির ছিলেন পঞ্চায়েতে। ছিলেন ব্লকের বিডিও সঞ্জয় শিকদার। বাজেটের সাধারণ সভায় এ দিন হাজির ছিলেন ৩১ জন সদস্যের সকলেই। বাজেট পাশও হয়ে যায়।”
প্রধানের অভিযোগ, “এর আগে বাজেট পাশ করাতে মশিউর ও কয়েক জন সদস্য বাধা দেন। এ দিন যাতে বাজেট পাশ হয় তার জন্য দলের সর্ব স্তরের নেতাদের সাহায্য চাওয়া হয়। সেই মতো পঞ্চায়েতে হাজির ছিলেন সাংসদ, বিধায়কেরা। তাতেই মশিউর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বাজেট সভা শেষ হতেই আমাকে ঘরের মধ্যে আটকে প্রথমে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেন। উঠে দাঁড়াতেই কষিয়ে গালে চড় মারেন। তারপরেই শুরু হয় এলোপাথাড়ি মারধর। রক্ত পড়তে থাকে নাক, কান দিয়ে। ঘরের মধ্যে মশিউর ছাড়াও ছিল তাঁর অনুগত উত্তম ঘোষ। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় আমাকে সাগরদিঘি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সাগরদিঘি থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি দুপুরেই।”
জঙ্গিপুরের এসডিপিও প্রবীর মণ্ডল বলেন, “প্রধানকে মারধরের একটা ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ যদি থানায় দিয়ে থাকেন তবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মশিউর প্রধানকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনও মারধর করিনি প্রধানকে। প্রধান পঞ্চায়েতের নিজস্ব ফান্ড থেকে সাড়ে ৬ লক্ষ তুলে নিয়েছেন। প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে। আমাকে প্রধান হুমকি দিয়ে গিয়েছেন, আমার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করার।” প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য উত্তম ঘোষ বলেন, “বন্ধ ঘরে আমি ছিলাম। কিন্তু আমি প্রধানের গায়ে হাত দিইনি। বরং গোলমাল থামানোর চেষ্টা করেছি।”
তবে তৃণমূলের মহিলা জেলা পরিষদ সদস্য সাজিবা খাতুন বলেন, “আমাকেও সাংসদ খলিলুর রহমানের সামনেই মশিউর গালি দিয়েছেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)