করোনা আবহে যখন ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আসাই বারণ, এমনকি মিডডে মিলের জন্যও আসতে নিষেধ করা হয়েছে, সেখানে সুতির একটি প্রাথমিক স্কুলের প্রধানশিক্ষক দেবব্রত দাস তাঁর বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের দিয়ে গ্রামে ঘুরে ঘুরে সমীক্ষা করাচ্ছেন। খবর পাওয়ার পরপরই ওই সমীক্ষা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। সুতি ১ ব্লকের ওই ঘোড়াপাখিয়া প্রাথমিক স্কুলের শিশু সংসদের ছাত্রছাত্রীরা গ্রামের মধ্যে যাঁরা খুব কষ্টের মধ্যে আছে তাঁরা সরকারি সহায়তা কতটা পাচ্ছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই সমীক্ষা শুরু করেছিল গত সপ্তাহ থেকে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, দেবব্রতবাবু কেন পড়ুয়াদের এই ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিলেন? দেবব্রতবাবু বলছেন, ‘‘মার্চ মাসে গ্রামের অনেক পরিবার স্কুলে আসে তাদের দুর্দশার কথা জানাতে। তখনই ঠিক হয় বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখা হবে তাঁদের সমস্যাগুলি। পরে সেই সব পরিবারের সমস্যার কথা জানানো হবে পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসে। তখন অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, এই সমীক্ষাটা করবে, পড়ুয়ারাই। কারণ স্কুলে দু’জন মাত্র স্থায়ী শিক্ষক। তারপরই করোনা দেখা দেয়। তা এতদিন করা যায়নি। তাই এখন তা শুরু করেছিলাম।’’ কিন্তু করোনা আবহে কেন এমন কাজ করলেন? তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমাদের গ্রাম পুরোপুরি করোনামুক্ত। করোনার মাস্ক পরে দূরত্ববিধি মেনেই কাজ করছিল শিশুরা। আমিও সঙ্গে ছিলাম।’’ তবে গ্রামেরই একটি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক ষষ্টিপদ দাস বলছেন, ‘‘সমীক্ষা করা ভাল। কিন্তু এই সময় শিশুদের দিয়ে তা করানো ঠিক নয়। বিপদের আশঙ্কাতেই তো স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। শিশু ও বয়স্কদের নিজেদের বাড়িতে থাকাই এই মুহূর্তে নিরাপদ।"
বিডিও রবীন্দ্রনাথ বারুই বলছেন, ‘‘ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমার কাছে একটা রিপোর্ট দিয়ে গিয়েছেন বৃহস্পতিবার। দেখব পরিবারগুলির জন্য কিছু করা যায় কি না। সেই সঙ্গে তাকে বলে দেওয়া হয়েছে, করোনা আবহে শিশুদের দিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এ কাজ করানো যাবে না।’’