প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে খুন হলেন সার ব্যবসায়ী। শনিবার এই ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে ওই সার ব্যবসায়ীকে খুন করা হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতের নাম কাজল দত্ত (৪৭)। প্রতি দিনের মতো শনিবারও ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন কাজল। সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েক জন। ভরতপুরের সন্ধিপুরের বিল পার হতেই দুই মুখোশধারী আততায়ী মোটরবাইকে করে এসে কাজলের উপরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারেন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন কাজল। ঘটনার আকস্মিকতায় কাজলের সঙ্গীরা পালিয়ে যান। পরে এলাকার লোকজন দেখে পুলিশকে খবর দেন। কাজলকে উদ্ধার করে ভরতপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:
-
মত্ত অবস্থায় বান্ধবীকে হেনস্থা! দিদিকে বাঁচাতে ইট দিয়ে অয়নের মাথায় আঘাত, তাতেই মৃত্যু?
-
অন্য ‘বেলাশুরু’, স্বামীহারা নিঃসঙ্গ মায়ের বিবাহ দিলেন কন্যারা
-
মেয়ের সঙ্গে প্রেম, আবার মায়ের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা! অয়ন-খুনে ইঙ্গিত ত্রিকোণ সম্পর্কের, ধৃত আরও তিন
-
পছন্দের ইউটিউবারের সঙ্গে দেখা করতে সাইকেলে ২৫০ কিমি পাড়ি কিশোরের! ‘হিসাব’ পাল্টে দিল পুলিশ
ভরতপুর বাজারে ভরতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের উল্টো দিকে সারের দোকান কাজলের। তাঁকে খুনের কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কাজলের দাদা সজল দত্ত বলেন, ‘‘আমার ভাই প্রতি দিন ভোর চারটে সাড়ে ৪টেয় হাঁটতে বেরোয়। আজও গিয়েছিল। ভোর ৫টা ১০-এ খবর পাই ভাইকে খুন করা হয়েছে। আমাদের কোনও পারিবারিক শত্রু নেই। ওর কারও ব্যবসায়িক শত্রুতা ছিল বলেও জানি না। কে বা কারা এমন করল, তা ভেবে কূল পাচ্ছি না।’’
কাজলের বাল্যবন্ধু প্রাক্তন বিধায়ক কমলেশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওর সঙ্গে সকলের বন্ধুতা ছিল। ওর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলেরও যোগ ছিল না। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ব্যক্তি ছিল কাজল। নিতান্তই সাদামাটা এক জন ব্যবসায়ী। তার এই পরিণতি কী ভাবে হল তা ভাবতে পারছি না।’’
খুনের জেরে এলাকায় দেখা দেয় উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খুনের কারণ জানতে ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে। ঘটনার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।