ছুটির দিনে রাস্তায় যানজট কমই ছিল। সেই সুযোগে গতির খেলায় মেনেছিলেন দুই বাসচালক। কয়েক কিলোমিটার রেষারেষি করে বাস ছোটানোর পর উল্টে গেল একটি বাস। প্রাণ গেল এক মহিলাযাত্রীর। জখম হলেন বেশ কয়েক জন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার বেলা ১টা নাগাদ নদিয়ার কৃষ্ণনগর-করিমপুর রাজ্য সড়কের কাঁঠালিয়া এবং মহিষবাতান সংলগ্ন মাঠের মাঝে ওই দুর্ঘটনা হয়। বাসে উল্টে মারা যান একজন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম বাসন্তী মণ্ডল। বয়স ৫২ বছর। তিনি করিমপুর থানার অভয়পুরার বাসিন্দা। এ ছাড়া আরও ১৫ জন যাত্রী জখম হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং যাত্রীদের একাংশ জানিয়েছেন, কৃষ্ণনগর থেকে করিমপুরগামী দু’টি বেসরকারি বাসই ছেড়েছিল নাজিরপুর মোড় ছাড়ার পর থেকেই একে অপরকে টেক্কা দিচ্ছিল দু’টি বাস। রাস্তার মোড়ে অপেক্ষারত যাত্রীদের কে আগে তুলবে, তা নিয়েই শুরু হয় দুই বাসের রেষারেষি। কাঁঠালিয়া ছাড়িয়ে মহিষবাতানের মুখে ফাঁকা রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনের বাসে ধাক্কা মেরে রাস্তার একটি গাছে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যায় অন্য বাসটি। সংঘর্ষের অভিঘাতে এগিয়ে যাওয়া বাসটি ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়লে ভিতরে থাকা যাত্রীরা হুড়মুড়িয়ে একে অপরের উপর পড়ে যান। তাঁদের সমবেত চিৎকার-চেঁচামেচিতে মাঠের কাজ ফেলে দৌড়ে যান কৃষকেরা। তাঁরাই উদ্ধারকাজে হাত লাগান।
বাসের ভিতর থেকে রক্তাক্ত ও থেঁতলে যাওয়া অবস্থায় এক মহিলাযাত্রীকে উদ্ধার করে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতার পরিজনেরা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কাজে পরিবারের সঙ্গে কৃষ্ণনগর গিয়েছিলেন তিনি। বাড়ি ফেরার পথে ওই দুর্ঘটনা।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনায় আহত ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পরে করিমপুর থানার পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ক্রেন নিয়ে গিয়ে রাস্তা থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটি সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক বলেই খবর।